কবির কোন নিয়ম মানতে নেই (!)
লিখেছেন অর্ফিয়ুস, অক্টোবর ৬, ২০১৪ ৩:০০ পূর্বাহ্ণ

টাইটানিক মুভিটা তখন মাত্রই বের হয়েছে। বাংলার একটা ক্লাসে মহাবিরক্ত হয়ে লেকচার শুনছি। টিচার বুঝাচ্ছিলেন , কবিরা যে একটু আলাদা হয়। পাশের থেকে একজন বলে উঠলো , “তোর আর একটা কবির পার্থক্য জানিস? নদীতে একটা নৌকা দেখে তুই ভাববি নৌকা যাচ্ছে , কবি ভাববে টাইটানিক যাচ্ছে। চাইলে কবিতাও লিখে ফেলতে পারে। ”

 

কবিরা কি আসলেই আলাদা? কবিতা কি? কবিই বা কারা?

এই প্রশ্নের উত্তর বের করা আমার জন্য খুব সহজ কাজ না! আমার নিজের পরিবারে কবি-স্থানীয় মানুষ নাই। একজন ছিলেন, আমি দুনিয়ায় আসার নয় বছর আগেই দুনিয়া ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন। তাঁর লেখা কবিতা-প্রবন্ধের বাঁধাই করা খাতাটা আজও বাসায় মহার্ঘ্য বস্তু। পরিবারে নতুন আসা কোন সদস্যকে মহা সমারোহে সে খাতা দেখানো হয়, আম্মু অশ্রুসজল চোখে তাঁর ‘বড্ডাইসু’র স্মৃতিমাখা খাতা খুলে দেখানঃ

“ভালো করে ফুটিয়ে পানি তার সাথে দিয়ে চিনি চা পাতা একটু খানি

একটু দুধ দিও সাথে খেতে বড় তৃপ্তি তাতে সকাল এবং বিকালেতে…”

কবিমনের কয়েকজন কাছাকাছি মানুষকে দেখেছি , দেখছি। সময়টা হয়ত অনেক লম্বা না, কিন্তু তাঁদের বিভিন্ন অনুভূতি বা ভাব চোখের সামনে রঙ ধরতে কিংবা রঙ হারাতে দেখেছি। আল্লাহর দেয়া এই অসাধারণ প্রতিভার ধারণকারীদের দেখে কখনও আড়ালে চোখ মুছেছি, কখনও শিউরে উঠে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে দুয়া করেছি।

 

“হঠাত করেই একটা ভাবনা বাক্সেবন্দী করার অপেক্ষায়

কত স্বপ্নের রঙ ফ্যকাশে হলেও চৌকো ছবি রঙ্গিন থেকে যায়”

– এরাই কি কবি? কবি কি তারাই নন যাদের ইন্দ্রিয় একটা বেশী? সেই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় দিয়ে তাঁরা একটু গভীরে ডুবতে পারেন। উদাহরণটা একটু এমন, নদীর পারে বসে মাছ ধরা জেলে আর অনুসন্ধিৎসু ডুবুরীর মত। দুজনেই একই পানি থেকে সম্পদ আহরণে ব্যস্ত, কিন্তু অবগাহনের স্তর আলাদা। কেউ পেট ভরানোর মাছ পেয়েই খুশীমনে বাড়ির পথ ধরতে পারেন, আর কেউ দমবন্ধ করে উপভোগ করেন নদীতলের শোভা,  আর সে সুন্দরকে শুধু চোখে ধারণের আফসোস নিয়ে বাড়িতে ফেরত যান। দুপক্ষই একই স্রষ্টার সৃষ্টি, কিন্তু এক পক্ষ আর এক পক্ষের কাছে দূর্বোধ্য রহস্য। আর যেহেতু মাছধরা জেলেরা সংখ্যায় বেশী, সমাজে ব্যতিক্রম সেই ডুবুরীরাই। সঙ্গত কারণেই জেলেদের সংখ্যা বেশী, সৃষ্টিকর্তার অপার দয়া এখানেই। সভ্যতার পেট যে এদের ছাড়া চলবে না, প্রতিদিনের বাজার হাট প্রয়োজনের ফর্দ এদের হাতেই পূরণ হতে হবে যে! আর ডুবুরী? তাদেরও দরকার। এরাই যে সভ্য মানুষের মনের খোরাক মেটানোর রহস্যময় গুরুদায়িত্ব কাঁধে নেয়া বেপরোয়া কিছু ‘অকালপক্ক’ মানুষ!

 

তো, কি দাঁড়ালো? কবিরা হচ্ছেন সাধারণ ঘটনাগুলোর মধ্যেই  গভীরতায় লুকিয়ে থাকা সত্যটিকে বুঝে নেয়ার মানুষ, যার প্রকাশ বা প্রকাশের ইচ্ছাও তাঁদের ইচ্ছাধীন।

আচ্ছা, এই প্রকাশের ভাষাটিও কি স্রষ্টাপ্রদত্ত? সাধারণত তাই। স্কুল-কলেজ-বিলেত বিবর্জিত অনাথ ছেলে নজরুল নইলে কিভাবে লিখলো,

“আমি বিদ্রোহী ভৃগু,

ভগবান-বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন

আমি স্রষ্টা-সুদন, শোক-তাপ-হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন

আমি চির-বিদ্রোহী বীর–

বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির !”

কিংবা রেডিও বাংলাদেশে সামান্য চাকুরী করা কোন এক ফররুখ কিভাবে জানলো আত্নমর্যাদার সে মূলমন্ত্র? “তোরা চাসনে কিছু কারও কাছে খোদার মদদ ছাড়া” আর জীবন দিয়ে দেখিয়ে গেল আত্নসম্মান কাকে বলে। বাসার পাশেই সে কবির সাদামাটা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবার দুয়া করি, আল্লাহ আমাকে , আর আমার সন্তানদের এমন আত্নমর্যাদা দিন।

 

হঠাৎ এই কবিবন্দনার একটা কারণ আছে। বয়স আর কবিসুলভ গভীর দৃষ্টির ভারসাম্যের কথা বলতে ইচ্ছা করছিলো খুব। যে ঝাঁকড়া চুলের ছেলেটি তেইশে এসে বিদ্রোহী হয়েছিলেন, তাঁর এর আগের জীবন বৈচিত্রময়। মসজিদে নামাজ পড়িয়ে সংসার চালিয়েছেন, রুটির দোকানে কাজ করেছেন, স্কুল পালিয়েছেন, ঘেটুদলে গান গেয়ে নেচেছেন, রাজনীতি করেছেন, দেশের পক্ষে উর্দি পরে যুদ্ধ করেছেন। স্রষ্টাপ্রদত্ত ভাবনার গভীরতাকে শব্দে প্রকাশের আগে তাদের ঝালিয়ে নিয়েছেন জীবনের ঘূর্ণিপাকে, ঘষে নিয়েছেন বাস্তবতার মেটে পাথরে। আর এক ভাববাদী ‘রাত্রি দেখার কবি’, ধর্মত্যাগ করেছেন, পরে সমাজ তাঁকে ত্যাগ করেছে। কবি মায়ের কাছে গান শুনতেন, দুরারোগ্য ব্যাধীতে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় কাটিয়েছেন, অধ্যাপনার চাকুরী হারিয়েছেন। তারপরই কবিতা তাঁর কাছে রাতের জোৎস্নার স্নিগ্ধতা নিয়ে এসেছে। মানবিক দূর্বলতাকে কাটিয়ে ভাবালুতাকে সঙ্গী করে সামনে এগোনোর পথ তখন তাঁর জানা। সেই জীবনানন্দই জীবনের প্রথম প্রবন্ধে বলেছেন, “সকলেই কবি নয়। কেউ কেউ কবি ; কবি – কেননা তাদের হৃদয়ে কল্পনার এবং কল্পনার ভিতরে চিনত্মা ও অভিজ্ঞতার সারবত্তা রয়েছে, এবং তাদের পশ্চাতে অনেক বিগত শতাব্দী ধরে এবং তাদের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক জগতের নব নব কাব্যবিকীরণ তাদের সাহায্য করেছে। কিন্তু সকলকে সাহায্য করতে পারে না ; যাদের হৃদয়ে কল্পনা ও কল্পনার ভিতরে অভিজ্ঞতা ও চিনত্মার সারবত্তা রয়েছে তারাই সাহায্যপ্রাপ্ত হয় ; নানারকম চরাচরের সম্পর্কে এসে তারা কবিতা সৃষ্টি করবার অবসর পায়।”

 

কবি, যখনই তিনি বুঝতে পারেন, তিনি আসলে অন্য কেউ, তাঁকে যতটুকু দেখা যাচ্ছে, তিনি শুধু ততটুকুই নন, ঠিক তখনই কবির নিজেকে একটি লাগাম পরানোর সময় চলে আসে। প্রতিটা চিন্তা আর শব্দকে সময়ের বাঁধা পেরুতে দিতে হয়, পরিপক্ক হয়ে উঠার অপেক্ষায় থাকতে হয়। এর মধ্যে যদি শব্দেরা ফুরিয়ে যায়? না, ফুরিয়ে যাবে না। জীবনবোধের অভিজ্ঞতাসিক্ত সে শব্দেরা আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে, উঠবেই। অভিজ্ঞতা তাই বলে। বরং শব্দদের ইচ্ছেমত চলতে দেয়াটাই ঝুঁকির। জীবনের প্রতিটা বদলে যাবার সময়ের পর, আগের চিন্তাগুলো এসে নইলে কবিকে নিজের কাছেই অসহায়, লজ্জিত, সংকুচিত করে তুলবে। বিশেষ করে, নারী পুরুষের প্রাকৃতিক সম্পর্কের অন্তর্নিহীত রুপটি কবির কাছে ধরা পড়ে যায়, তার যথার্থ বয়স হয়ে ওঠার আগেই। সেসবের প্রকাশ যখন অপ্রাপ্তবয়ষ্ক কোন কবির কলমের উপজীব্য হয়ে ওঠে, কবির ভেতরের সত্ত্বাটির পবিত্রতা একটি সংকীর্ণ পুলসিরাতের ওপর দাঁড়িয়ে যায়, যেখানে থেকে পতন অবশ্যম্ভাবী, অপেক্ষা শুধু সময়ের।

 

আর একটা কথা, সৃজনশীলতা আর প্রশংসা ফুল আর ফলের মতন, একে অপরের অবশ্যম্ভাবী ফলাফল। কবির ভাবনা চিন্তা মূল্যায়ণপ্রত্যাশী হতেই পারে। তবে মূল্যায়ণের অভাবে সৃজনশীলতা থেমে যাওয়া যেমন কাম্য নয়, মূল্যায়ণের প্রভাবে কবিও পরিণত হতে পারেন না অপকবিতে। কারণ, কবির সকল সৃষ্টির উদ্দেশ্য এই মাটির পৃথিবীর সাফল্য নয়, হওয়া উচিত নয়। সৃষ্টির সামান্য প্রশংসা, মুখ ভেংচীর কারণে কবি তাঁর সে পথ থেকে সরে গেলে একসময়ের ভক্তরাই তাকে স্মরণ করবেন চরম অশ্রদ্ধায়। অথচ লক্ষ্যের পথে অবিচল কোন ঘরকুণো স্বভাবের কবিও সময়ের প্রয়োজনে হয়ে উঠতে পারেন জাতির কর্ণধার।

 

“মানুষকে চেনা যায় তার বাজে খরচের মধ্য দিয়ে’- শ্বেতশুভ্র শুশ্রুধারী ভাবুক কবিটির এই কথাটা কবির জন্যই লেখা, নয় কি? কবিই পারে, তার ‘দেখা’কে, ‘জানা’কে, ‘বুঝা’কে সময়ের আঁচে পরিপক্ক করে নিয়ে সমাজের অসঙ্গতি দেখিয়ে দিতে, তরুণদের পথ দেখাতে, প্রকৃতির কাছে যেতে সাহায্য করতে, কিংবা অজানা ভালোলাগা বা বিষাদের কালজয়ী পংক্তি উপহার দিতে।

 

ভালো থাকুক সব কবি, মানুষকে ভালোবাসার সাগরসেঁচা মুক্তায় ভরে উঠুক এ মূল্যবান মানুষগুলোর রাতজাগা প্রহর, পবিত্র মনের স্বচ্ছ পর্দা হয়ে থাকুক তাঁদের শব্দগুলো।

পোস্টটি ৫৬৪ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
৫ টি মন্তব্য
৫ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. ছুঁয়ে গেলো মন-প্রাণ, বোঝাই যাচ্ছে, কমপক্ষে “অগণিত নির্ঘুম রাতে”র ফসল এই ভাবনার কথা-মালা গুলো…মন্তব্য করার জন্য আমি আসলে প্রস্তুত নই, কেননা তাহলে আগে আমাকে সেই নির্ঘুম রাত গুলোকে দেখতে হবে কাছে থেকে, হয়তোবা সেটা সম্ভব নয়, কাজেই নিস্ক্রান্ত হলাম…তবে একটা আন্দাজ করে যাই, লেখার শুরুতে যে পংক্তিমালাটি রয়েছে, সেখানে কেন যেন মনে হচ্ছে, নীচের লাইন কয়টাই ভালো মানাতো, অন্তত গোটা লেখাটায় যে ধরণের শ্বাস (স্বাভাবিক কিংবা দীর্ঘশ্বাস!) ঝরে পড়েছে তাঁর আলোকে…

    “কবির জীবনবোধ ঘসাকাঁচ আয়নার মতো
    সবার সম্মুখেই থাকে, ঘোরে ফেরে
    তবু যেনো কেউ তাঁর পরিচিত নয়-
    তাঁর শোকে কারো বুকে বাজে না ক্রন্দন
    কবির জীবনে তাই থাকেনা কভু বন্ধন!”

    আল্লাহ্‌ আপনাকে গদ্য কবি অন্তত বানিয়ে দিন, দোয়া থাকলো আমৃত্যু…আমীন… :)

  2. দুঃখিত বলবো না, কেননা ইচ্ছে করেই ডাবল কমেন্ট করেছি :P মূলত এই অংশটির গুরুত্ব টা বুঝানোর জন্যই… এই লাইন ক’টার সাথে পুরাই একমত, দুই পায়েই দাঁড়াইয়া একমত :) একটা কবি, বিশেষ করে কমপক্ষে ইসলামী ভাবধারায় গড়ে উঠা কবি, ধ্বংস হবার জন্য এইটাই যথেষ্ট… আল্লাহ্‌ তায়ালা সব কবিকেই এ থেকে রক্ষা করুক…
    “কবি, যখনই তিনি বুঝতে পারেন, তিনি আসলে অন্য কেউ, তাঁকে যতটুকু দেখা যাচ্ছে, তিনি শুধু ততটুকুই নন, ঠিক তখনই কবির নিজেকে একটি লাগাম পরানোর সময় চলে আসে। প্রতিটা চিন্তা আর শব্দকে সময়ের বাঁধা পেরুতে দিতে হয়, পরিপক্ক হয়ে উঠার অপেক্ষায় থাকতে হয়। এর মধ্যে যদি শব্দেরা ফুরিয়ে যায়? না, ফুরিয়ে যাবে না। জীবনবোধের অভিজ্ঞতাসিক্ত সে শব্দেরা আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে, উঠবেই। অভিজ্ঞতা তাই বলে। বরং শব্দদের ইচ্ছেমত চলতে দেয়াটাই ঝুঁকির। জীবনের প্রতিটা বদলে যাবার সময়ের পর, আগের চিন্তাগুলো এসে নইলে কবিকে নিজের কাছেই অসহায়, লজ্জিত, সংকুচিত করে তুলবে। বিশেষ করে, নারী পুরুষের প্রাকৃতিক সম্পর্কের অন্তর্নিহীত রুপটি কবির কাছে ধরা পড়ে যায়, তার যথার্থ বয়স হয়ে ওঠার আগেই। সেসবের প্রকাশ যখন অপ্রাপ্তবয়ষ্ক কোন কবির কলমের উপজীব্য হয়ে ওঠে, কবির ভেতরের সত্ত্বাটির পবিত্রতা একটি সংকীর্ণ পুলসিরাতের ওপর দাঁড়িয়ে যায়, যেখানে থেকে পতন অবশ্যম্ভাবী, অপেক্ষা শুধু সময়ের।”

  3. হাহাহা… কবির জন্য দিকনির্দেশনা বুঝি? ;)

    কথা প্রসঙ্গে একটা কথা বলি, ধরুন ছন্দের ব্যাপারটা, প্রথম প্রথম কোন কবিই চায় না ছন্দ-মাত্রা শিখতে। কেউ কেউ ত একে কবিত্বের অপমান বলেই ধরে নেন, কবিকে কেন নিয়মের মধ্যে আসতে হবে?! এ পর্যন্ত যতজন কবির জীবনী পড়েছি সবাই স্বীকার করেছেন , প্রথম জীবনের ওই উগ্র অহংবোধ খুব দ্রুতই মিইয়ে যায়, ছন্দ মাত্রা অলংকার শেখার পরই পঙতিগুলো মূলত হয়ে ওঠে কবিতা, শুদ্ধ কবিতা। ব্যাপারটা অনেকটা সীমার মাঝে অসীমের সুর বাজানোর মত।

    শুধু কবি কেন, এমনি একজন রিফর্মারের কথা ধরুন, নিয়মভাঙতেও যে একটা নিয়ম লাগে সেটা ভাঙার প্রাথমিক আবেগের আতিশয্যে হয়ত ধরা পড়ে না, ধীরে ধীরে সময় ও আহরিত জ্ঞান তাকে বিপ্লবের সঠিক পথটি দেখিয়ে দেয়। যে সেই পথ খুঁজে পায় না তার অবস্থা হয় ওই যে ‘স্কুলিঙ্গ তার পাখায় পেল ক্ষণকালের ছন্দ , উড়ে গিয়েই মিলিয়ে গেল’টাইপ।

    ব্যক্তিগতভাবে আমি সাহিত্যে সততার পক্ষে। অর্থাৎ, লেখক যা ভাবছেন যা বুঝচ্ছেন যা উপলব্ধি করছেন ,তিনি কলম কে দিয়েও সে কথাই বলাবেন। লোকরঞ্জন বা লোকদেখানো ভড়ং সাহিত্য বড় মাপের অসততা।

    সমাজ যারা পাল্টাবে তাদের অকালপক্ক হতেই হবে। সমাজ তার সন্তানদের খোকাবাবু সাজিয়ে রেখেছে বলেই ত পরিবর্তনকারীর দরকার! কথা হলো, বড় প্রতিভার সাথে বড় দায়িত্বও কাঁধে এসে পড়ে। সে দায়িত্বের উপযোগী করে নিজেকে গড়ে তোলা ওই বিশেষ মানুষটির প্রাথমিক কর্তব্য। আত্মউপলব্ধি আর অহংকার এক জিনিস নয়, এটাও বুঝতে হবে। মানবতার জন্য কর্মের খাতাটা কিছু প্রতিভার এলোমেলোমিতেই ভরে যায়, তাহলে প্রাপ্তির ফলাফল কেবলি শূন্যতা। প্রতিভার অপচয় বিরাট এক ট্রাজেডি।

    শুভকামনা। :)

  4. ভালো থাকুক কবিরা,ধরে রাখুক সময় গুলো কে তাদের কাব্যের মুঠোয় পুরে…

  5. লেখার শুরুতে যে কবিতাটি দেখতে পাচ্ছি সেটা সুন্দর হলেও লেখার সাথে কেমন যেনো মিল খুঁজে পাচ্ছিনা।

    প্রথমত কবিদের ইন্দ্রিয় ক্ষমতা একটু বেশি এই বিষয়টার সাথে আমি একমত নই। কবিরা আর দশটা সাধারণ মানুষের মতোই মানুষ, কবিদের আলাদা যে বিশেষত্ব আছে সেটা হচ্ছে ছন্দজ্ঞান, ছন্দের মাধ্যমেই কবিরা ফুটিয়ে তোলেন কবিদের অনুভূতি, মানুষের অনুভূতি।

    কবিদের কথা প্রসঙ্গে এক বিখ্যাত জোকারের গল্প মনে পড়ে গেলো, যিনি সার্কাসে নানা রকম হাস্য রসাত্মক কান্ড ঘটিয়ে মানুষকে আনন্দ দিয়ে থাকেন। কিন্তু ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন প্রচন্ড রকমের বিষন্ন। যার কান্ড কারখানে দেখে লক্ষ লক্ষ লোক দুঃখ ভুলে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে, সেই মানুষটা নিজেই ব্যক্তি জীবনে প্রচন্ড রকমের বিষন্নতায় সময় পার করেন, কি অদ্ভুত এই দুনিয়া।
    আমি মনে করি কবিরাও এমন, অধিকাংশ কবির ব্যক্তি জীবন কবিতার মতো সুন্দর হয়না।

    জীবনের অনেক চরাই উৎরাই পার হয়ে একজন কবি হয়ে ওঠেন পরিপক্ক কবি, ততদিনে বার্ধক্য তাকে আকড়ে ধরে। সবাই সুকান্ত হয় না কিংবা বলা যায় সুকান্তর মতো পাবলিসিটি সবাই পায় না। যদি তাই হতো তবে বাংলাদেশের অলিতে গলিতে হাজারো সুকান্ত গড়াগড়ি খেতো।
    আর সব কথার শেষ কথা হচ্ছে একজন কবি প্রকৃত কবি হয়ে উঠেন তার মৃত্যুর পরে মরোনত্তর সম্মাননা কিংবা মৃত্যু দিবস পালন করার ইস্যু হিসেবে।

    আজকে ফররুখ স্মৃতি পুরস্কার দেয়া হচ্ছে, তুমুল হৈ চৈ হচ্ছে কবি ফররুখ আহম্মদকে নিয়ে। কিন্তু এটাও ভেবে দেখতে হবে জীবিত ফররুখ আমাদের কাছ থেকে কি পেয়েছেন?
    তিনি আখিরাতে যেটা পাবেন সেটা আল্লাহর ইচ্ছাধীন। কিন্তু যদি বলি এই কবিতাই ফররুখ আহম্মদের শেষ জীবনের কষ্টের মূল কারণ, তবে খুব একটা ভুল হবে বলে মনে করিনা।

    //তবে মূল্যায়ণের অভাবে সৃজনশীলতা থেমে যাওয়া যেমন কাম্য নয়, মূল্যায়ণের প্রভাবে কবিও পরিণত হতে পারেন না অপকবিতে। কারণ, কবির সকল সৃষ্টির উদ্দেশ্য এই মাটির পৃথিবীর সাফল্য নয়, হওয়া উচিত নয়। সৃষ্টির সামান্য প্রশংসা, মুখ ভেংচীর কারণে কবি তাঁর সে পথ থেকে সরে গেলে একসময়ের ভক্তরাই তাকে স্মরণ করবেন চরম অশ্রদ্ধায়। //
    একজন আদর্শবাদী কবির উচিত এই চারটি লাইনকে হৃদয়ে খোদাই করে রাখা!

    আর শেষ কথা হচ্ছে অর্ফিউস ভাইয়ার লেখাগুলো আমার কাছে অত্যান্ত কঠিন কঠিন লাগে। ভাবটা এমন, ‘আমার কথা আমি কইয়া দিছি, এবার আপনারা বুইঝা লন!’

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.