মনের আকাশের তারাগুলো (ধারাবাহিক গল্প)
লিখেছেন লাল নীল বেগুনী, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৬ ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
tara

(পর্ব এক)

প্রচণ্ড ক্ষুধায় নাবা ঘুম থেকে উঠে গেল। তড়াক করে উঠে বসে সেল ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো দুইটা বিয়াল্লিশ বাজে। এলিসাপু ফোনে কথা শেষ করে ঘুমানোর প্রিপারেশন নিচ্ছেন। রুমের আর অন্য সব গভীর ঘুমে… পানির বোতল নিয়ে বারান্দায় চলে গেল নাবা। চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার আর ভ্যাপসা গরম। এর মধ্যেই সত্তরের সামনে এক মেয়ে ফোন কানে নিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষের মতো খিল খিল করে হেসে যাচ্ছে। বার বার শুনতে ইচ্ছা করার মতো মোহময় হাসি। ওপাশের মানুষটা নিশ্চয়ই আবার হাসির শব্দ শোনার জন্য একটার পর একটা  কথা খুঁজে খুঁজে বের করছে!  এক্সটেনশনের বারান্দায়ও অনেক মেয়েকে দেখা যাচ্ছে। রোকেয়া হলের এই মেয়ে গুলার কি গরম লাগার অনুভূতিও নাই! গরমটাকে গায়েই লাগাচ্ছে না যেন এসি রুমে বসে আছে। এসব ভাবতে ভাবতে ক্রমশ একটা অপরাধ বোধ নাবাকে ঘিরে ধরলো। আর তিন মাস আগেইতো সে নিজেও এমন হাসির রাজ্যে থাকতো। ব্রেক আপের আগে দীপ্ত ছাড়া আর কারো সাথে তেমন মিশতোও না। দীপ্ত থাকলে এখন এভাবে অবেলায় ঘুমিয়ে পড়াও হতো না। কয়েকবার ফোন দিয়ে খোঁজ নিয়ে ফেলতো ডাইনিং থেকে খাবার আনা হয়েছে কিনা, এশার নামায পড়া হয়েছে কিনা, নাঈম সারের এসাইনমেন্ট শেষ হয়েছে কিনা…

‘ওহহো… সকাল দশটার মধ্যে এসাইনমেন্ট না করলে নাঈম স্যার খুন করে ফেলবে!’ ফ্রেশ হয়ে রুমে ঢুকে এসাইনমেন্ট নিয়ে বসলো নাবা। নিপাপুর যেন ডিস্টার্ব না হয় তাই খুব খেয়াল করে লাইটের উপর খাতা রাখলো যেন শুধু টেবিলের উপর আলো পড়ে। এসাইনমেন্টের কভার পেইজটা সব সময় দীপ্ত করে দিত। সাইন্স ফ্যাকাল্টির স্টুডেন্ট হয়েও ইতিহাসের মতো একটা সাবজেক্টের কত্ত এসাইনমেন্ট সে করে দিত! কেন যে মানুষ অন্য মানুষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে! নির্ভরশীল না হলে হয়তো ভুলে যাওয়া সহজ কিন্তু যে জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে ঢুকে গিয়েছে তাকেতো ভুলে যাওয়াও সম্ভব না! যে মানুষটা এত কেয়ার নিত, এত বেশি ভালো ছিল। সে একটা সত্যের মাধ্যমে এত খারাপ হয়ে যাবে কেন? এত ভালোবাসা সব অভিনয় ছিল ঠিক আছে! কিন্তু এভাবে নিজের ধর্ম নিয়ে মানুষ মিথ্যা কথা বলে! দীপ্ত অন্য ধর্মের এটা কখনোই নাবা মেনে নিতে পারে না। এক দলা কান্না নাবার গলায় এসে আটকে আছে। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একটু খানি অক্সিজেনের আশায় নাবা বারান্দায় এসে দাঁড়ালো। নিজেকে সান্ত্বনা দিতে থাকলো- আর মাত্র কয়েকটা দিন; ঈদের ছুটিতে বাসায় গেলে দীপ্তর কথা একদম ভুলে যেতে পারবে! এক্সটেনশনের সামনের আকাশটাও মনে হচ্ছে মন খারাপ করেছে। যেকোন সময় হাউমাউ করে কান্না শুরু করবে। (চলবে)  

untitled g

পরের পর্ব

পোস্টটি ৫৭৭ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
২ টি মন্তব্য
২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.