মনের আকাশের তারাগুলো (ধারাবাহিক গল্প)
লিখেছেন লাল নীল বেগুনী, নভেম্বর ১, ২০১৬ ৫:০২ পূর্বাহ্ণ
tara-1

(পর্ব পাঁচ)

ঘড়ির ছোট কাটা দশের কাছাকাছি পৌঁছানোর সাথে সাথেই তিপ্পান্নর লাইট নিভে গেল। সুফিয়ার জন্য রুমের সবাই আজকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সুফিয়ার কালকে এডমিশন টেস্ট। থাকার জায়গা নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলো এতদিন। বড় মামার বন্ধুর মেয়ে এলিসা আপু হলে একদিনের জন্য থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। শুধু থাকার জায়গাই না। নিপা নামে এক আপু এলিসা আপুকে ডেকে তার নিজের বেডে  নিয়ে গিয়েছে। সুফিয়ার যেন ভালো মতো ঘুম হয় এই জন্য এক বেডে ওকে একা থাকতে দিয়েছে। এত ছোট বেডে দুইজন মানুষ কীভাবে রাতের পর রাত কাটিয়ে দেয় সুফিয়া ভেবে পায় না। সবাই কত কষ্ট করে এখানে পড়ালেখা করে! তবুও সুফিয়া এ বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়তে চায়। কালকে যেভাবেই হোক ভালো পরীক্ষা দিতে হবে। ভর্তি হতে পারলে এই মানুষ গুলার সাথে আরো দেখা হবে। কিন্তু এত মানুষের সাথে ভর্তি যুদ্ধে কী সুফিয়া পারবে! অস্থির হয়ে সুফিয়া শোয়া থেকে উঠে বসলো। পাশের বেড থেকে নাবা বললো, “পানি খাবা সুফিয়া? মাথার পাশটায় খাটের নিচে হাত দেও পানি আছে।”

এলিসা বেড থেকে নেমে স্যান্ডেলে পা ঢুকাতে ঢুকাতে বললো, আজকের আকাশটা অনেক সুন্দর! আসো বারান্দায় আসোনাবার পিছে গুটি গুটি পায়ে হেটে সুফিয়া বারান্দায় গেলো। অদ্ভুত সুন্দর একটা চাঁদ। আশে পাশে তুলার মতো অনেক গুলা মেঘ ঘুরাঘুরি করছে। নিপা নিঃশব্দে হেটে এসে সুফিয়ার পাশে দাঁড়ালো।  কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললো, “এরকম জোছনা রাতে মন ভরে জোছনা খেতে হয়। মন যখন ভরে যায় তখনই চোখে ঘুম চলে আসে।”

নাবা বলে উঠলো “এরকম উথাল-পাতাল করা জোছনা দেখলে অনেক বছর বাঁচতে ইচ্ছা হয়। শায়মা অসাধারণ রাতটা ঘুমায় ঘুমায় মিস করলো।”

 চারজন তরুণী মুগ্ধ চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে ফিসফাস করছে। ছন্দহীন-উদ্দেশ্যহীন বাক্যালাপ।

 হঠাৎ নিপার কথায় যেন সবাই আরও গভীর ভাবে প্রকৃতির মাঝে ডুবে যায়। স্পষ্ট কিন্তু ধীর আওয়াজে উচ্চারিত হতে থাকে-  

 

   তারপর কোনো এক সময়ের জন্য নীরবতা
   মেনে নিতে হবে জেনে সার্থবাহদের
   আলাপ মিইয়ে আসে মুখে
   এখন ঘুমের আগে
   গভীর রাত্রির পথে। (চলবে)

আগের পর্ব

 

পোস্টটি ৪৩৩ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.