মনের আকাশের তারাগুলো (ধারাবাহিক গল্প)
লিখেছেন লাল নীল বেগুনী, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৬ ৪:১৩ পূর্বাহ্ণ
young's star

(পর্ব চার)

রাত প্রায় দুইটা। মালিবাগ মোড়ের ঠিক পাশের গলিটায় তিনটি যুবক চুপচাপ পাশাপাশি হাটছে। আড্ডাবাজ এ তিন যুবকের চুপ থাকার কারণ তারা নিজেরাও জানে না। অদ্ভুত সুন্দর চাঁদের আলোয় পুরো এলাকার চেহারা বদলে গিয়েছে। সম্ভবত স্নিগ্ধ জোছনাই যুবকদের চুপ করিয়ে রেখেছে! অসাধারণ জোছনা রাত হলেও কেমন জানি একটা মন খারাপ করা ভাব চারিদিকে… সব নীরবতা ভেঙ্গে দিয়ে মাঝখানের লম্বা মোটা-সোটা ছেলেটা ভরাট গলায় গেয়ে উঠলো-  

 আহারে কিযে মায়া লাগে তাহারে,

 আমি সইতে পারি না কইব বল কাহারে …

 অই আসমানের চাঁদ, জমিনে লুটাবে … আমার চোখের ইশারায়।
তাহারে যদি না পাই তাহারে, তবে জ্বলবে আগুন পর্বতে পাহাড়ে …

আহারে কিযে মায়া লাগে তাহারে,

 আমি সইতে পারি না কইব বল কাহারে …

ছেষট্টি নাম্বার বাড়ির সামনে এসে ওরা দাঁড়ালো। অনিক গান থামিয়ে তার বিখ্যাত অট্টহাসি দিতে দিতে বললো “মিরাজ… তুই কান্দস কার লেইগা?”

মিরাজ চোখ মুছতে মুছতে বললো- “তুই মিয়া! একই গলা দিয়া এত্ত দরদ দিয়া গান গাইয়া আবার এই গলা দিয়াই খেকশিয়ালের মতো হাসছ ক্যামনে?”

অনিক সুমনের দিকে তাকিয়ে বললো, আমি কিন্তু কইয়া দিলাম চান্দু কোথাও ফাইস্যা গেছে!”

সুমন বললো, “ মাইয়াডা কে আমাগোরে খালি ক!”

মিরাজ বিরক্ত হয়ে বললো, “গানটা শুইনা কেমন জানি ভিতরটা ফাকা ফাকা লাগতাছিলো। বাদ দেছ না! তর ফোনটা বাইর কর মামা!”

সুমন মোবাইল হাতে নিয়ে বললো “ক্যালেন্ডার গার্লরে কল করমু?”

অনিক সিগারেট ধরাতে ধরাতে বললো, উহু! আজকে ঈদের দিন! নতুন কেউ!”

মিরাজ বললো “মাম্মা নীল শাড়ির নাম্বারে কল দাও। মাইয়াডা যা আছিলো না!”

 “নীল শাড়ির নাম্বারতো পাই না! খাড়া… অন্য নাম্বারে… কথা কইছ না! রিং হইতাছে।”

“লাউড স্পীকার দে শালা।”

“হ্যালো!”

“কে বলছেন?”

“আজীব! রাত-বিরাতে কল দিয়ে কে বলছেন জিজ্ঞেস করার মানে কী?”

“না… মানে… এটা মিরাজের নাম্বার না?”

“রং নাম্বার!”

“রাখবেন না প্লিজ! আপনার ভয়েসটা একদম আমার বোনের মতো! ওকে ছাড়া প্রথম ঈদ! খুব মিস করছিলাম তাই সম্ভবত প্রভু আপনার ভয়েস শোনার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।”

“উম্ম… উনি এখন কোথায়?”

“গত বছর ও না ফেরার দেশে চলে গিয়েছে।”

“ও! কথাতো বললেন… এখন রাখছি…”

“না! প্লিজ!”     

“দেখেন! আমার পাশে রিলেটিভসরা ঘুমাচ্ছে! পরে কী মনে করে… সো… রাখলাম।”

“আপনাকে ডিস্টার্ব করার জন্য স্যরি। পরে কথা হবে!”

“আমি অপরিচিত কারো সাথে কথা বলি না। দুঃখিত!”

মিরাজ উদাস গলায় বললো “এমনে মুখের উপর কাইট্টা দিল! দুনিয়ার থেকা দয়া-মায়া উইঠা গেছে!”

অনিক বললো, “আরে মাম্মা! দুনিয়া কিছুই চিনলা না। এই মাইয়া কাহিনী বিশ্বাস করুক আর না করুক। সারা রাত সুমনের কষ্টে ঘুমাইতে পারবো না।”   

তিন বন্ধুর হাসির শব্দ শুনে কুকুরগুলাও ডাকতে শুরু করলো। কুকুর গুলা অনিকের গানের সাথে সাথে ঘেউ ঘেউ করে যাচ্ছে। অনিক দরদমাখা গলায় গাচ্ছে-

আহারে কিযে মায়া লাগে তাহারে,

 আমি সইতে পারি না কইব বল কাহারে …      (চলবে)

আগের পর্ব

 

পোস্টটি ৫৭৪ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.