মনের আকাশের তারাগুলো (ধারাবাহিক গল্প)
লিখেছেন লাল নীল বেগুনী, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৬ ৩:১৩ পূর্বাহ্ণ
maxresdefault

(পর্ব তিন)

মশিউর রহমান সাহেবের মন-মেজাজ খুব খারাপ। অবস্থা বেগতিক দেখে শাফিন লামিয়াকে কল দিল।

খুব ব্যস্ততার সাথে কল রিসিভ করে লামিয়া বললো- “হুম্ম মামা! ঝটপট কথা শেষ করো।”   

“তুই কইরে! দুলাভাই কিন্তু মহাক্ষ্যাপা! হরতালের মধ্যে কেউ এমনে বাইর হয়!

“আজিব! মাইনষের কাজ-কাম নাই! তুমি রাস্তায় আইসা দেখো সবাই বাইর হইছে!”

“আমার  দেখার দরকার নাই! সমস্যা হইতেছে তোদের গাণিতিক হারের কাজ-কামে দুলাভাইয়ের রাগ জ্যামিতিক হারে বাড়তেছে!”

“তুমি না এইসব থিওরী তোমার দুলাভাইরে শোনাও। দেখবা তোমার সাথে থিওরী কপচাইতে কপচাইতে সব রাগ পানিতে ধুয়ে যাবে!”

“এতক্ষণে একটা কাজের কথা বললি!”

“ধন্যবাদ! এবার কী ফোনটা রাখতে পাররি?”

 

শাফিন খুব রিলাক্স ভাব নিয়ে দুলাভাইয়ের রুমে ঢুকলো। মশিউর সাহেব রাগে গজগজ করতে করতে বললো- “ভার্সিটিতে উঠে পাখনা গজাইছে মেয়ের! বিপদে পড়লেতো ওর ভার্সিটি ওর সাথে দৌড়াবে না আমাদেরই দৌড়াতে হবে। ”

শাফিন একটা হাসি দিয়ে বলল, “ সেটা নিয়ে চিন্তা করবেন না! ঢাবির পোলাপান বলে কথা! শুধু দৌড়াবে না, জান দিয়া দিবে। গ্যারান্টেড।”

“ঢাবির প্রশংসা করতে পারলেতো তোমার এক বেলা না খেলেও চলে! এসব ভোগাস কথা আমার সামনে বলবা না! আর ওই দন্ত-বিকশিত হাসিটাও আমার সামনে না!”

“আমি কখনোই ভোগাস কথা বলি না! এইগুলা আপনারাই বলেন!”

“সেইদিনের ছেলে এত কথা বলো কীভাবে! আমি কবে ভোগাস কথা বলেছি?”

“উত্তেজিত না হয়ে ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখেন- আমি ২টা পয়েন্ট দেখাচ্ছি- আপনি এই ফাঁসিতে তালিয়া বাজাইতেছেন আর ওইদিকে মেয়েকে বাসা থেকে বের হতে দিতে চাচ্ছেন না… এতে এই ফাঁসি বিরোধীদের হরতালের মৌন সমর্থন হলেও আপনার যায় আসে না। ভিতরে এক আর বাহিরের আচরণ আরেক!”

“আমি হরতাল সাপোর্ট করছি না। কিন্তু মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভাববো না! তুমি তোমার ২য় পয়েন্ট বলো”

“আপনি সব সময় নিজেকে ন্যায়ের পথে স্থির বলে দাবী করেন। অথচ সততা যাচাই না করে আপনি এটা সাপোর্ট করতেছেন?”

“তুমি কী চাচ্ছ? আমি এখন ওই রাবিশ লোকটাকে সাপোর্ট করি? হরতাল করতে নামি?”

“না দুলাভাই! আমি জাস্ট বলতেছি ট্রাইব্যুনালের বৈধতা, বানোয়াট সাক্ষী, মিথ্যা অপবাদ হেন-তেন-সেন নিয়ে যেই প্রশ্নগুলা উঠতেছে সেটা সম্পর্কে জানেন। তারপর কাউকে সাপোর্ট করেন।”

মশিউর সাহেব চিন্তামগ্ন গলায় বললেন- “সেটা ঠিক বলছো! যেকোন কিছুতেই দুই পক্ষের কথা সম্পর্কে আমাদের জানা উচিত। ঠিকটা জানলেও! ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শোনা উচিত! তোমার ফোন আসতেছে মনে হয়। রিসিভ করো।”  

শাফিন রুমের বাইরে যেয়ে কল রিসিভ করে বিজয়ের হাসি দিয়ে বললো, “হ্যালো! দুলাভাই ইজ ম্যানেজড বাই দ্য গ্রেট শাফিন! আপাতত কয়েকদিনের জন্য তিনি ব্যস্ত… তুই নিশ্চিন্তে আস্তে ধীরে বাসায় আয়।”

আগের পর্ব 

পরের পর্ব

 

পোস্টটি ৬৬৬ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.