মনের আকাশের তারাগুলো (ধারাবাহিক গল্প)
লিখেছেন লাল নীল বেগুনী, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৬ ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ
star

(পর্ব দুই)

জ্বালো জ্বালো… আগুন জ্বালো… স্লোগানে কান ফেটে যাওয়ার মতো অবস্থা। আস্তে কথা বললে যেহেতু কথা শুনতে পাওয়া যাবে না তাই লামিয়া চিৎকার করে বললোঃ “এই আফরা! বিড়বিবিড় করে কী বলছিস?

 আফরা সব সময়ের মতো মুচকি হাসি দিয়ে মাথা দোলাতে দোলাতে বললো- “নিভাও! নিভাও! আগুন নিভাও!”

“কাদের মিছিল জানিস কিছু?”

“নাহ! বাট কলা ভবনে এখন নিশ্চয়ই বিরোধী দলের মিছিল হবে না। হয় সরকারী দল নাহয়…”

“নাহয় কী?”

“কী আবার! কমরেড! লাল সালাম!”

“যাই হোক আমাদের কী! কিন্তু তুই আগুন নিভাও বলে জপ করতেছিলি ক্যান! মাথা ঠিক আছে?”

“এমনি… এই স্লোগান শুনলে ক্যান জানি আমার মুখ দিয়া অটোমেটিক এই জপ বাইর হয়…”

“এমনে হইলেই ভালো… কারো লাগানো আগুন নিভাইতে গেলে সবসময় বিপদ!”

“তরে বলছে! ভুল জায়গায় আগুন নিজে নিজে জ্বলুক আর কেউ জ্বালাক ওইটা নিভাইতেই হবে। বিপদ আসলেও নিভাইতে হবে। কারণ না নিভাইলেও ওই আগুন আস্তে আস্তে কাছে এসে আমাদেরকে মেরে ফেলবে। আর অতি সাবধান থেকে আগুন নিভাইতে যেয়ে যদি নিজে মরেও বাকীদের বাচাইতে পারি… তাও তো সাফল্য।”

“এমনও তো হইতে পারে তুই নিভাইতে চেষ্টা করতেছিস দেখে তোর গায়েই এসে তারা আগুন লাগায় দিল।”

“ লিসেন ম্যাম! আফরা মানবতার পোশাক পরতে যেয়ে মৃত্যু বরণ করতে রাজী আছি বাট কাপুরুষের মতো নয়!”

হঠাৎ রাফি দুই তরুণীকে চমকে দিয়ে পেছন থেকে গম গম স্বরে বলে উঠলো “কাপুরুষ না! কামহিলা!”

আফরা একরাশ বিরক্তি নিয়ে বললো “সব সময় জোকারী করবি না! ভাগ এখান থেকে!”

“যাবো কিন্তু তার আগে জানতে চাই আফরা কেন মৃত্যু বরণ করবে!”

লামিয়া হাসতে হাসতে বললো “যারা একটু আগে মিছিল করছিলো তাদের বিরোধিতা করে।“

“এই ভালো হইতেছে না! আমি ঠিক এই কথা বলি নাই!”

লামিয়া বললো “আমিতো ফান করতেছি! বাদ দে! কাদের মিছিলরে রাফি?”

“তোরা যেখানে আমিও সেখানে! তবে জানা উচিত ছিল। দেশে কোথায় কী হচ্ছে আমাদের জানা উচিত।”

আফরা বললো “এই! তোর আর নাবার না এখন আশিক স্যারের সাথে দেখা করার কথা! তাত্তাড়ি যা!”

 

রাফির দৌড়ে যাওয়া দেখতে দেখতে লামিয়া বললো “তোর মরার কথা শুনে রাফির চেহারা কেমন হইছিল দেখছিস? বেচারা তোরে এত ভয় পায়! প্রোপোজ করতেও পারতেছে না।“

আফরা চেয়ার থেকে উঠতে উঠতে বললো “এই সব কথা আমার সামনে একদম বলবি না। আমি গেলাম।”

“আরেহ! চেতছ ক্যান! আমি ওর চোখে-মুখে তোর জন্য ফিলিংস দেখলাম!”

“একটা ছেলে হিসেবে একটা মেয়ের প্রতি ফিলিংস থাকতেই পারে। কিন্তু আমি ওর মধ্যে এইসব কোনদিন দেখি নাই।“

“সেটটাই! আমি দেখছি আর এজন্যই বলছি!”

“শোন! এরকম কথা শুধু আমাকে না আর কাউকেই কখনো বলবি না! তোর কথার জন্য আজকে যদি আমার এই ফালতু ছেলের জন্য ফীলিংস চলে আসে!”

“আসলেও প্রবলেম নাই! ও এতটা ফালতু না!”

“অসহ্য! এখানে আর থাকা যাইতেছে না!”

“আফরা দাঁড়া! শুনে যা!”… (চলবে) 

আগের পর্ব

পরের পর্ব

 

 

পোস্টটি ৫৯২ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.