শৈল্পিক ধর্ষণ
লিখেছেন সাফওয়ানা জেরিন, জুলাই ৩, ২০১৬ ২:৪৮ অপরাহ্ণ
predator1

maxresdefault

 

 

 

 

মেয়েটা চোখ কচলে কচলে বলল- কী করবো আপু! ও বলতো! ভালোবাসা আর বিশ্বাসের প্রমাণ দাও। সেই প্রমাণ দেওয়ার একমাত্র উপায় বিছানায় যাওয়া। কারন, মেয়েদের সবচেয়ে প্রিয় জিনিষ নাকি ইজ্জত।

এটাকে ধর্মের ভাষায় অবশ্য ব্যভিচার বলে।নারী পুরুষের সম্মতিতে যে অপরাধ সংগঠিত হয়ে থাকে, ধর্ম তার জন্য নারীর পাশে দাঁড়াতে পারেনি। দাঁড়ানো যৌক্তিক ও নয়। যেই আবেগের বশেই এই কাজ করুন, দোষ তার আর আপনার অবশ্যই সমান।

কেউ সুযোগ নিয়েছে, তারমানে তো এটা ও যে কেউ সুযোগ দিয়েছে। একজন ধর্ষিতা যে সুবিচার পায়, একজন বিবাহিতা ধোঁকা খেয়ে যাওয়া নারী যে ঘোল খাওয়ানোর অধিকার রাখে ধোঁকাবাজ পুরুষকে, সেই অধিকার কোন অজুহাতেই পাবেন না আপনি।

কিন্ত একে নারী আর পুরুষের ক্ষেত্রে দুইভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়। ধরুন, কেউ একটি মেয়েকে ভালোবাসে, মেয়েটি ও ভালোবাসে। আমি খুব সাধারণ যায়গা থেকে বলছি, কোন ধর্মপ্রাণ বা নৈতিকতার বাঁধানো ইটের ঘরের মালিকদের কথা বলছিনা। খুব সাধারণ। রহিমা সখিনা পিঙ্কি হ্যাপিদের কথা বলছি। কিংবা যদি বা নৈতিক মানুষ ও হয়, একটা আধটা নষ্ট হতেও পারে। নারীকে দেখে নাকি মুনি ঋষির ও ধ্যান ঠিক থাকেনা।

আগুন যেমন ছারখার ধরে সব কিছু, এই বিপরীত দিকের আকর্ষণের আগুনে একদিনে সব জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়না। তবে, একবার আগুন লাগলে, দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। সামনে যা কিছু পায়, গ্রাস করার আগ পর্যন্ত সেই আগুনকে থামানো যায় না।

বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কগুলোর পরিণতি ও এই দাবানলের মতোই। তবে, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হল- এই দাবানলে পুড়ে খাক হয়ে যায় শুধুই নারী। সমাজে অতি সাম্প্রতিক প্রকাশিত বিভিন্ন ঘটনার দিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন এই কথার সত্যতা। হ্যাপি কী দেশের মানবরচিত আইনেও বিচার পেয়েছে? অথচ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করলে সেটার বিচার কিন্তু আমাদের প্রচলিত আইনে আছে। তারপরেও হ্যাপি জিততে পারেনি। কারন, এই প্রচলিতও মানব রচিত আইন ও নিজের কথায় নিজেই বিশ্বাস করেনা। টাকার কাছে, সামাজিক প্রতিপত্তির কাছে এই আইন বড়ই অসহায়।

তাইতো আজ রুবেলের মতো ছেলেও সুন্দরী বউ পেয়ে হাসি হাসি মুখে বিয়ের স্টেজে ছবি তুলতে পারছে।

শতকরা ৯৫ ভাগ সম্পর্ক, যেখানে শর্তে বাঁধা পড়ার আগেই আবেগের বশবর্তী হয়ে নারী সব দিয়ে দেয়, সেইসব সম্পর্কগুলো আর বিয়ে পর্যন্ত গড়ায় না। মেয়েটা রাস্তায় পড়ে গড়াগড়ি খেলেও না, মিডিয়ায় ছেলের চেহারা ফাঁস করে দিলেও না, এমনকি সুইসাইড করলেও না। কিছুতেই না।

এই প্রজাতির এতো বড় প্রকৃতি জানার পরেও কেউ যদি এই ঝুঁকি নিতে চায়, সেটার ফলাফল ও তাকেই বহন করতে হবে।
আর মেয়েদের প্রকৃতিটাও জানিয়ে দেই। আমাদের উপমহাদেশের নারী মাত্রই বিয়ের আগে একবার সতীত্ব অন্য কাউকে দিয়ে দিয়েছে মানে, তাকে আর মরলেও ভুলতে পারবেনা। পশ্চিমা সমাজে অবাধ মেলামেশা কোন বিষয়ই না। সেখানে যে যার স্বার্থ আদায় করে সরে যায়। অনেক সময়, রাতে বারে নাচতে নাচতে কার সাথে বিছানায় ঘুমাল তাও মনে থাকেনা। যেহেতু বাঙালি নারী মানেই একজনে সব দিয়েছি, এমন! তাদের এই ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জীবন মৃত্যুর প্রশ্ন বটে।

ধর্ষণ মানে জোর করে দৈহিক মিলন করা। ধর্ষণে মেয়েটার কোন অধিকার রক্ষিত হয়না, দ্বায়বদ্ধতার যায়গা থাকেনা। মেয়েদের ক্ষেত্রে এটা আবেগিয় ব্যভিচার হলেও ছেলেদের জন্য এটা শৈল্পিক ধর্ষণ। কারন যুক্তির আলোকেই বলা যায় একটা ছেলে এটা জেনেই ভোগ করতে চায় যে সে এই মেয়েটাকে বিয়ে করবেন না।হ্যা! মেয়েটা তার সব হিসাব কড়ায় গণ্ডায় পেয়ে যাবে। চোখের জ্বলে সকাল বিকাল ভাসবে, কখনো মরে যেতে চাইবে, কখনো বা শরীরের চামড়া খুলে ফেলে দিতে চাইবে, কখনো বা কামনা করবে ধর্মের নিয়মে বিচার হয়ে যদি তার যাতনাগুলো দূর হয়ে যেতো! এই অনুতাপ অনুশোচনায় একদিন সে ঠিকই জীবনের বাস্তবতাগুলো বুঝে নিতে বাদ্ধ হবে। না মানতে পারলে আত্মহত্যা করবে।

কিন্তু তাই বলে ছেলেদের সেই অন্যায়গুলো ও তো বৈধ হয়ে , একদিন বিচার হবেই। সেটা বিয়ের স্টেজে হবেনা হয়তো, কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হবেনা, হবে হয়তো এমন সময় যখন আর অনুতাপের সময় নেই।

কেউ নিজের উপর অন্যায় করলেই তারমানে এই না যে অন্য কেউ সে অন্যায়ে সঙ্গী হলে তার বিচার হবেনা। যার যার অন্যায়ের, পাপের ফলাফল তাকে তাকেই মাথা পেতে নিতে হবে।

আর মেয়েদের জন্য একটা প্রশ্ন। বলতে পারেন প্রাণী জগতে সবচেয়ে হিংস্র প্রাণীর নাম কী?

প্রাণী জগতের সবচেয়ে হিংস্র প্রাণী বাঘ কিংবা সিংহ নয়। তার নাম হচ্ছে হায়েনা।

হায়েনাকে কেন সবচেয়ে হিংস্র প্রাণী বলা হয়? অন্য সব প্রাণীরা শিকারকে আক্রমণ করার সাথে সাথে গলায় কামড় দিয়ে মেরে ফেলে। মেরে সেই মৃত শিকারের মাংস খায়। আর হায়েনা জীবিত শিকারকে পেছন থেকে আক্রমণ করে। পেছন থেকে খেতে খেতে সামনের দিকে চলে যায় এবং কলিজা খেয়ে ফেলে। এই পুরো সময়টাতেই শিকার জীবিত থাকে। অসহ যন্ত্রনা নিয়ে হায়েনার উপভোগ সহ্য করে।

এই যে এসব প্রাণী, ফল ফুল আর যাবতীয় যা কিছু তার সবই মানুষের কোন না কোন স্বভাবের সাথে উপমা দেওয়ার মতোই। আপনার প্রতি আপনাকে ভক্ষণ করে যাওয়া পুরুষটির আচরণ ও সেই ক্ষুধার্ত হিংস্র হায়েনার চেয়ে কম কিছু নয়।নারীকে আবেগিয় আক্রমণ করে বশীভূত করে রেখে কলিজা পর্যন্ত পৌঁছে যেয়ে নিঃশেষ করে ছুড়ে ফেলবে একদিন ঠিক।

আপনি কী জানেন? খুন করার ও অনেক শিল্প আছে? কেউ কেউ সিরিয়াল কিলিং করে, কেউবা রাজপথে খুঁচিয়ে, কেউ বা বড়শির আগায় টোপ দিয়ে! নারীকে শৈল্পিক ভাবে ধর্ষণের শিল্প অনেকটা মাছ ধরার শিপ্লের মতোই। আর যে টোপ দিয়ে ধরা হবে, তার নাম বিয়ের স্বপ্ন, সাধ আকাঙ্ক্ষা। এরপর টোপ গেলার পর ভক্ষণ হয় হায়েনার কায়দায়।
ধর্ষণ খুব কষ্টের অভিজ্ঞতা, আর প্রেম মানেই শিল্প, রঙিন খাম। এই যে কিছুদিন আগে ভার্সিটির এক ছাত্র মেয়েটাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে ঢাকায় এনে টানা দুইদিন ধর্ষণ করলো। এটাকে কী বলবেন? শুধুই ধর্ষণ? নাকি প্রেমের কারনে মঞ্চায়িত হওয়া ধর্ষণ শিল্প?

আর প্রাণে বেঁচে থাকলেও অসীম মৃত্যু যন্ত্রণা নিয়ে তড়পাবেন , প্রেমিকের বাড়ির নিয়ন বাতির আলোতে। হয়তো দাওয়াত ও পেয়ে যাবে সেই মেয়েটি – আমার বিয়েতে আসিস ****** । তোর কতো ঘুমের ওষুধ খাওয়ার সাধ, ঐদিন আমিই তোরে খাইতে দিবোনে। আর এই অমানুষরূপী হায়েনার জন্যই বিছানা নিচ্ছেন? কাঁদতে কাঁদতে গাইছেন- তোমার বাড়ির সামনে দিয়ে আমার যেদিন মরণ যাত্রা যাবে, তুমি বারান্দাতে দাঁড়িয়ে থেকো , আমায় সেদিন দেখতে পাবে?

সত্যি কথা হল! সে সেদিন বাড়িতেই থাকবেনা, মধুচন্দ্রিমায় সমুদ্র স্নানে যাবে। যদি সত্যিই বুঝে থাকেনা, নিজের আবেগিয় ব্যভিচার কিংবা পুরুষের শৈল্পিক ধর্ষণের শিকার হয়ে গেছেন অসাবধানে তাহলে এটাও বুঝুন, এটা পাপ ছিল। পাপ মানেই আত্মহত্যা করার অনুসঙ্গ নয়। পাপ মানেই সেই অনুশাসনে ফিরে যাওয়া যেখানে পাপের কোন লেশমাত্র নাই। চলুন না, সামনে এগিয়ে যাই।

পোস্টটি ২০১৭ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
৩ টি মন্তব্য
৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. আল্লাহ তার বান্দা-বান্দিদের পরীক্ষা করেন, কখনও হতে পারে তা আশাভঙ্গের মাধ্যমে। মনের মানুষকে না পাওয়ার যন্ত্রনাও তাই। সবই আল্লাহর ইশারায় ঘটে। হয়তো আল্লাহ চান না বলেই তাদের মিলন হয় না, হয়তো তা দুনিয়া আখিরাতে কল্যানকর হবে না বলেই আল্লাহ আমাদের তা হতে বিরত করেন। আল্লাহ বলেন, “তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না। [সুরা বাকারা: ২১৬]
    আর দয়ালু প্রভুর কাছে যেতে কিসের সংকোচ, তিনি তো বসে আছেন কখন সেই পথচ্যুত বান্দাটি তার কাছে অনুশোচনা নিয়ে ফিরে আসবে, তিনি ক্ষমা করবেন, ভগ্ন হৃদয় জোড়া দিবেন, আশার পিয়ালা কানায় কানায় ভরে দিয়ে বলবেনঃ “হে আমার বান্দাগণ! তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না, আল্লাহ সব পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু ।” [সুরা জুমার: ৫৩]

  2. পাশবিক আচরণে পুরুষগণ শ্রেষ্ঠ।

  3. নারী-পুরুষ প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব সম্মান বোধের প্রতি অনেক সচেষ্ট হওয়া জরুরী। যদিও সমাজে নারীকেই এসব সমস্যার মূল কারন ভেবে অবিচার করা হয়।

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.