নাচতে নামলে ঘোমটা দেওয়া যায় না
লিখেছেন সাফওয়ানা জেরিন, মার্চ ২৬, ২০১৬ ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
045-0202055011-boycott-israel

নাচতে নামলে ঘোমটা দিয়ে নাচা যায় না। পাবলিকই ঘোমটা খুলে দেয়, আর নাহয় এমনিই ঘোমটা খুলে যেতে বাধ্য। 

মনে করুন, বাসে করে ভার্সিটি থেকে আসছেন। মজা করে একটা গল্পের বই পড়ছেন। বাস একটা স্টপেজে থামল। পাড়ার বখাটেরা আপনার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ঘেউ ঘেউ করা শুরু করলো। 
গভীর রাত। মনে করুন কম্পিউটারে কাজ করছেন। কোনভাবে পর্দা উড়ছে। আপনার অস্পষ্ট অবয়ব দেখে শিল্পায়িত এলাকার কোন এক কারখানার লেবাররা আই লাভ ইউ বলে চিৎকার করা শুরু করলো। এই চিৎকারটার সাথেও কুকুরের ঘেউ ঘেউয়ের মিল আছে। 
ফেইসবুকের ইনবক্সে কোন এক বুড়া/ জোয়ান পুরুষের একটু গল্প করতে মন চাইলো। কোনভাবে আপনার পরিচিত। উত্তর না দিয়েই দেখুন কেমন কুকুর কামড়ানো রোগীর মতো বিকারগ্রস্থ হয়ে আপানকেই কামড়াতে চাইবে মান সম্মান হানিকর কথা বার্তা বলে!
মনে করুন! আপনি কোন অফিসে চাকরি করবেন। বস চায় আপনাকে আকর্ষণীয় নারী হিসাবে অন্তত চোখের দেখায় উপভোগ করতে, সেখানে আপনি চাইলেই আপনার মাথা ঢাকতে পারবেন? কোনদিন না। 
নারী সে কালো হোক হোক খাটো কিংবা যেমনই প্রত্যেকটা নারীর সৌন্দর্য পৃথিবীর অন্যতম দর্শনীয় বিষয়। যদি তা না হতো তাহলে কুকুরের এই কুই কুই শোনা লাগতো না হয়তো।
শুধু পুরুষের দর্শনীয় তাই নয়। কোথাও কোথাও আমরা দেখেছি স্কুলের মহিলা হেড মিস্ট্রেসই পরিমলদের বাঁচিয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ সাফাই গেয়ে বলেছে- ফুল থাকলে ভোমর আসবেই। তারা আবার নারী ও। 
কেঁচি হাতে ঘুরে ঘুরে ফুল হাতা জামাকে হাফ করে দিয়েছেন তিনি আর অন্য কেউ নন। উদয়ন স্কুলের এক শিক্ষিকাই তো , তাই না?
সর্বশেষ মডেল স্কুলের ঘটনাও আমাদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছে, নারী শিক্ষা পর্দানশিলদের হাত ধরে এই দেশে প্রসার লাভ করলেও, ঘোমটা দেওয়ার অধিকার দিতে পারেনি। 
বেশ কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে হিজাব নিয়ে অনেক বর্ণবাদি কাণ্ড কারখানা আমরা দেখেছি। কিন্তু আমাদের নাকের নীচে আমাদেরই দেশে এমন অনেক কাহিনী হলেও ব্যাপারটাকে আমরা সব সময় শোনা যায় এমন একটা হাস্যকর জোঁক হিসেবেই নিয়েছিলাম। 
ভাইভা বোর্ডে নেকাব দেওয়া যাবে না, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ঢোকা যাবে না, বিসিএসে চাকরি পাওয়া যাবে না এসব দেখেছি। আসলে উপরে যেগুলো বললাম সবই নারীকে মানুষ নয় বস্তু হিসাবে দেখার প্রমাণ। যেসব মেয়েরা পড়ালেখা করার জন্য রাস্তায় বের হয় তাদেরকেও এই বস্তুর চেয়ে কম কিছু দেখা হয়না। পড়তে বের হওয়া মানে বিদ্যাচর্চা করা নয়। নাচতে নামা। আর নাচতে নামলে ঘোমটা দেওয়া যাবে না,দিতে দেওয়া হবেনা। ঘোমটা দিবাই যখন ঘরে বইসা দাও, তোমার পড়ালেখা করার দরকার কী! আর না দিলে দুনিয়ার সবচেয়ে দর্শনীয় ব্যাপার আড়াল করে নাচতে নামার কোন অধিকার কন্যা তোমার নাই। এই নারী স্বাধীনতার যুগে এই যদি হয় নারীকে শিক্ষার অধিকার দেওয়ার শর্ত, তবে এটাকে স্বাধীনতা বলার আগে ১০০ বার ভাবতেই হবে আমাদের। আমরা যারা পড়া লেখা করতে ঘোমটা দিয়ে বের হয়েছি, তারা এই নাচতে নামার শিকড় কেটে ফেলছি। তাই কেঁচিগুলো উদ্ধত হয়ে আমাদের ঘোমটা আর ফুল হাতা জামার হাতা কেটে ফেলছে। কারন, তাদের কাছে পড়ালেখা মানে নারীর দেহচর্চা। দেহকেই জনে জনে প্রমট করা। সেখানে এই ঘোমটা থাকা যাবে না।

পোস্টটি ৬৫৬ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

Leave a Reply

Be the First to Comment!

Notify of
wpDiscuz