বন্ধুরা থাকলেই জিতবে সবাই! !
লিখেছেন সাফওয়ানা জেরিন, জুলাই ২৮, ২০১৫ ৯:৩৫ অপরাহ্ণ

teens-laughing-with-friends

বন্ধুরা থাকলে জিতবে সবাই, নতুন বিজ্ঞাপন। ছেলে মেয়ে ফ্রি মিক্সিং এর চূড়ান্ত উতসাহ ব্যঞ্জক চলমান চিত্র। বন্ধুরাই প্রেম করতে সাহায্য করছে, একসাথে সুইমিং পুলে ঝাপাঝাপি, খেলাধুলা, এই অবাধ মেলামেশা কী আমাদের সংস্কৃতিকে ধারণ করে?
হ্যা। এটা ঠিক ওয়েস্টার্ন দেশগুলোতে ছেলে মেয়ের কোন ভেদাভেদ নেই। সেখানে অনেকের বাবা মার সম্পর্ক ও গার্ল ফ্রেন্ড বয় ফ্রেন্ডের( আই মিন টু সে , জীবনেও বিয়ে করেনি, বাট বন্ধুত্বের খাতিরে একসাথে থেকে ছেলে মেয়েও জন্ম দিয়ে ফেলেছে)
অনেকে বলবেন, আপনি এতো হীন মানসিকতার কেন? বন্ধুত্বের মতো পবিত্র সম্পর্ককে কলঙ্কিত করছেন। বন্ধু আর প্রেমিক কী এক জিনিষ নাকি? বন্ধুদের অনেকেই ছেলে বন্ধুকে ভাইয়ের চোখে দেখে, মেয়েদের বোনের চোখে দেখে। একটা সীমারেখা পর্যন্ত এই দৃষ্টিভঙ্গি চালিয়ে দেওয়া গেলেও সীমা অতিক্রম করার পর এখানে কিছু না কিছু সমস্যা তৈরি হয়ই। 
আপন ভাইয়ের গায়ে যেমন হাসতে হাসতে ঢলে পড়া যায়, কাঁধে হাত রাখা হাত ধরে টানা টানি করা, এগুলোতে নৈতিকতার এতোটুকু ক্ষয় হয় না বললে আমি বলবো উহারা মানুষ নয় দেবতা। 
বন্ধুরা থাকলেই জীবন সংগ্রামে জেতা যায় না। আমি নিজে দেখেছি, মায়ের মৃত্যুর মতো কঠিন শোকেও ১০ বছরের বন্ধু ও বাসায় আসেনি, খোঁজ নেয় নি। জানি, বলবেন! বন্ধুর মতো বন্ধু থাকলেই এসব আন্তরিকতা পাওয়া যায়। 
আপনি কেএফসিতে খেতে যান, মার্কেটে শপিং করতে যান, ফ্যান্টাসিতে ঘুরতে যান, অবশ্যই আপনার বন্ধুর কোন অভাব হবে না। কিন্তু একটা বিপদে পড়ার পরে এইসব বন্ধুদের কয়জন সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখে একটু যাচাই করলেই বুঝতে পারবেন। 
কিন্তু মনুষ্য বন্ধুর চেয়েও একজন বড় বন্ধু আছেন। যিনি হাটতে গেলেও ছায়া হয়ে থাকেন, তাকেই সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু ভাবা উচিৎ। তার বন্ধুত্ব যে পায় তার আর কোন বন্ধুর উপরেই জেতার জন্য ভরসা করতে হয়না।

তবে এই মালটি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর বিজ্ঞাপন! খুব সুন্দর আবেগিয় ব্ল্যক্মেইল করে দেখাচ্ছে এরকম অবাধ মেলামেশা ছাড়া মানুষ কতো অসহায়। ছেলেমেয়ের বন্ধুত্বটা কতোই না স্বাভাবিক!
আমার এক আলট্রা মডার্ন ফ্রেন্ড আছে। যার ২ বছর জুনিয়র বয় ফ্রেন্ড তার বাবার সামনে মেয়ের বেড রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়। বাবা মা ও মডার্ন। তাদের কাছে এটা কোন ব্যাপার না। এই মেয়ে এই পর্যন্ত এমন ১১ জন বন্ধু ধরেছে আর ছেড়েছে। 
এই জাতীয় বিজ্ঞাপনগুলো এইসব টিনএজদের একটা নৈতিক সমর্থন যোগাচ্ছে। বাবা মায়ের সামনে এইসব বিজ্ঞাপন আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে বাবা মাকে যেন বলছে- দেখো ওরা কতো আধুনিক! তোমরা কতো খ্যাত! এভাবে আমাদের মিশতে না দিয়ে তোমরা অন্যায় করছ আমাদের সাথে, আমাদের কৈশোরের মূল আনন্দ কেড়ে নিচ্ছ।

এইসব বিজ্ঞাপন ছেলেমেয়েদের প্রলুব্ধ করছে এই জাতীয় বন্ধুর দল গড়ে তুলতে , হেসে খেলে জীবন পার করতে। চুম্বুক যেমন লোহাকে আকর্ষণ করে ঠিক তেমনি উঠতি বয়সের ছেলেদেরকে মেয়েরা আকর্ষণ করবেই, সেটা বন্ধু বলেন আর যাই বলেন। 
আর এমন অবাধ মেলামেশা করলে অবাধ যৌনাচার ও খুব সস্তা হয়ে যাবে। ঢাকার ইংলিশ মিডিয়াম থেকে শুরু করে বাংলা মিডিয়াম কো এডুকেশনের ধারক বাহক স্কুলগুলোর ভেতরের অবস্থা শুনলে শিউরে উঠবেন। আমার ছাত্র অক্সফোর্ডে পড়তো, std 7 । ও একদিন মুখ ফস্কে বলেই ফেলেছিল- জানো আপু, আমাদের ক্লাসের একটা মেয়েও ভার্জিন না, একটা ছেলেও ভালো না। 
ক্লাস সেভেনের ছাত্রর কাছে একথা শুনে আমি হতবিহবল হলেও একেবারেই অবাক হয়ে যাই নি। 
যে দেশে বন্ধুদের সঙ্গকে গুরত্ত দিয়ে এতো এতো বিজ্ঞাপন হতে পারে, যে দেশে যে কোন বয়সের কিশোর কিশোরী পর্ণ সাইট ভিজিট করতে পারে, সে দেশে এটা খুব বড় কিছু না। আরও খারাপ দিন আসছে সামনে এটাই ভেবে নিতে হয়। 
কোন কোন সংসারে সন্তানের উপরে বাবা মায়ের কথার চেয়ে সন্তান বন্ধুদের কথাকেই বেশী বেশী মূল্যায়ন করে থাকে। বাবা মা তখন হয়ে যায় দুই চোখের বিষ। বন্ধুরাই জীবন বন্ধুরাই মরণ। এই নির্ভরতা কারা শেখাল?
প্রযুক্তির জন্য পশ্চিমাদের দ্বারস্থ আমরা হয়েছি, ভালো কথা। কিন্তু ওরা যতই ধনী হোক, সামাজিক ভারসাম্যের দিক দিয়ে ওরা আমাদের চেয়ে গরীব। ওদের থেকে সংস্কৃতি ধার করতে গেলে ১৪ বছর বয়সে গর্ভপাত করানোর নিয়তিই আমাদের মেনে নিতে হবে।

 

কিন্তু একটাই কথা। বিজ্ঞাপনে বন্ধুদের সহযোগিতায় বড় বেশী কোন ভালো কাজ করতে দেখা যায় নি। দুইদিন পড়ে আপনার সন্তান এরকম বন্ধু জুটালে কিছুই বলার থাকবেনা, কারন, জাতীয় ভাবে এই ধরণের সম্পর্কের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। 
ঐ বন্ধুত্ত দিয়ে কোন কিছুই জেতা যায় না, যা নৈতিক চরিত্রকেই ধ্বংস করে দেয়

পোস্টটি ২০৮৫ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
২ টি মন্তব্য

Leave a Reply

2 Comments on "বন্ধুরা থাকলেই জিতবে সবাই! !"

Notify of
Sort by:   newest | oldest | most voted
স্বপ্ন কথা
Member

বন্ধু তো এমন হবে যে ভালো কাজে উৎসাহ দিবে,খারাপ কাজে নয়। কিন্তু বিজ্ঞাপন অনুযায়ী যে সংগা দেয়া হয়,তার সাথে বাস্তবতার রাত দিনের পার্থক্য! http://womenexpress.net/user/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_scratch.gif

টুইংকল
Member

http://womenexpress.net/user/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gif

wpDiscuz