পাত্রী চাই (পর্ব- ২)
লিখেছেন সাফওয়ানা জেরিন, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৪ ১১:২৫ অপরাহ্ণ

কিছুদিন আগে চ্যানেল ঘোরাতে ঘোরাতে ভারতের একটা প্রত্যন্ত অঞ্চলের কাহিনী নাট্য দেখলাম।
বড় বোনের বেশ ভালো ঘরে বিয়ে হয়। আর ছোট বোন কালো হওয়ায় হত দরিদ্র পরিবারেটির কাছে তার বিয়ের জন্য লাখ টাকার যৌতূক দাবী করা হয়। 
যদিও ছোট বোন অসাধারণ গিন্নী। হাতের রান্না, সেলাই কাজ, পট পট করে ইংরেজি বলা এমন মেয়ে ঐ তল্লাতে খুঁজে পাওয়া যায় না! 
মা মেয়েকে গঞ্জনা দেয় , মরে যেতে বলে , বাবা মেয়েকে বের করে দেয় বাড়ি থেকে। বাধ্য হয়ে আশ্রয় নেয় বড় বোনের কাছে।
বোন অনেক চেষ্টা করে ছোট বোনকে বিয়ে দিতে! কিন্তু কিছুতেই কালো মেয়েটির বিয়ে হয়না।
পাত্র পক্ষ এসে কালো মেয়ে দেখে ফিরে যেতে উদ্যত হলে মেয়েটি আত্মহত্যা করতে ছাদে যায়।

এরপর বড় বোন নিজের স্বামীর পায়ে ধরে তার বোনকে বিয়ে করতে। বিয়েও হয়। কিন্তু স্বামী শ্যালিকাকে বউ হিসেবে মর্যাদা দেয়না। বোন বাড়ির চাকরের সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পরে। বড় বোন জানতে পায় এবং চাকরের হাতে একদিন খুন হয়…

আপনারা ভাবতে পারেন, আমি বর্ণবাদ বা নারীর প্রতি বর্ণ বৈষম্য নিয়ে বেশী লেখি, কিন্তু এটা এমন একটা সমস্যা, যার কবলে কাল আপনার আমার বোন, মেয়ে আত্মীয় স্বজন ও আক্রান্ত হতে পারে। মানুষ হয়ে অমানুষের মতো চিন্তা ধারা থেকে বের হয়ে আসার প্রত্যাশায়ই আমার এই লেখালেখি।

একটা মেয়ে যতো শিক্ষিতই হোক, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার চাকুরীজীবী যাই হোক না কেন লম্বা ফর্সা সুন্দরী না হলে তার এসব যোগ্যতার আলাদাভাবে কোন মূল্য নেই। ফর্সা হওয়ার পরে কোন মেয়ে শিক্ষিত ভদ্র নম্র হলে সেটা সোনার অলংকারে হীরের ফুলের মতোই। যা না হলেও তেমন সমস্যা নেই, হলে তো ভালোই ভালো!

বড় বেশী কালো মেয়েরা মেয়েলি নয়, এরকম একটি ধারনা সাম্রাজ্যবাদের শুরু থেকেই ইউরোপে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েকশো বছরের প্রচারে, নাটক সিনেমা বিজ্ঞাপনে ফর্সার জয়জয়কারে ফর্সাই সুন্দর এই ধারনা ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বিখ্যাত লেখক বেল হুকস তাই দুঃখ করে বলেছেন- ” কালো মেয়েদের আগে মানুষ মনে করা হোক!”

নৃতাত্ত্বিক কারনেই যাদের ফর্সা হওয়ার কথা না, তাদের মধ্যে ফর্সা হওয়ার প্রবণতা ঢুকিয়ে দিয়েছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। আর এভাবেই মনোজগতে ফর্সার প্রভাব বজায় রেখীর শ্রেষ্ঠত্বকে পুঁজি করে বাজার বিকশিত করা হচ্ছে।

অর্ধেক অর্থনীতি বইয়ে এর একটি পরিসংখ্যান দেখা যায়-
” সারা পৃথিবী জুড়ে বার্ষিক ৩৩০০০ কোটি ডলারের ডায়েট খাবার, ২০০০ কোটি ডলারের প্রসাধনী বিক্রি হচ্ছে এই নারীদেহকে কেন্দ্র করে।”

এমনকি শিক্ষিত মেয়েরাও নিজেদের যোগ্যতায় আত্মনির্ভরশীল নয়। সমাজ তাকে হতে দিচ্ছে না।
সমাজের গড় রুচিতে নারীর প্রকৃত মূল্যায়ন এখনো থমকে আছে এভাবেই।

আপনার বাবা মা ভাই বোনের গায়ের রঙ্গের জন্য তাদের সাথে কি আপনার আচরণের কোন তারতম্য ঘটে? মা কালো হলে তাকে কি আপনি পরিত্যাগ করেন? বোনকে কালো হওয়ার দোষে গঞ্জনা দেন? সাথে নিয়ে কোথাও যেতে লজ্জিত হন?
যে মানুষটি আপনার জীবন সঙ্গী হবে তাহলে তার ক্ষেত্রে কেন চামড়ার রং এতো অর্থবহুল? সে ও তো আপনারই পরিবারের অংশ হবে,তাইনা?

পোস্টটি ৬৪২ বার পঠিত
 ২ টি লাইক
১ টি মন্তব্য
একটি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. আমাদের এক স্যার বলতেন, বউ হিসেবে কালো মেয়ে ভাল। তাদের সৌন্দর্য সবাই দেখতে পায়না, শুধু তাদের স্বামীদের চোখেই ধরা পরে। আর খুব সুন্দর মেয়েদের সৌন্দর্য সবাই দেখতে পায় তাই তা শুধু স্বামীর জন্য নির্দিষ্ট থাকেনা।

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.