পর্ণ মুভিকে না বলুন
লিখেছেন সাফওয়ানা জেরিন, আগস্ট ২০, ২০১৪ ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ

এসব কথা বললে বলবেন- ছিঃ! ছিঃ! মেয়ে মানুষ হয়ে এতো বাজে বাজে কথা বলছ তুমি? কিন্তু কি করবো বলেন? না বলে যে উপায় নেই। কারন, এই নোংরা কথা গুলো মুখ থেকে বের করার মতো ঘটনা সমাজে সবার চোখের সামনে হচ্ছে, আর আশাহত মন নিয়ে আমাদের বারেবারে এগুলো নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে।

 

অনেক আগে, খুব ছোটবেলায় এক বান্ধুবি বলেছিল- একবার পত্রিকায় থাইল্যান্ডে বাবা তার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে টানা বেশ কিছু বছর। এরপর থেকে সে তার বাবার প্রতি খুব সন্দেহপ্রবন হয়ে পরে। এক কথায় যেটা মানসিক সমস্যা বলা যায়। একটা অত্যন্ত পবিত্র সম্পর্ককে কলঙ্কিত করে ফেলে কিছু মানুষ, কিন্তু তার রেশ মনে থেকেই যায়, সমাজ জীবনে ফেলে যায় গভীর কালো ছায়া।

এরপর আমরা একই ঘটনা ইন্ডিয়ায় ঘটতে দেখলাম কিছুদিন আগে। এরপর এই তো কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে হোল এই ঘটনা। ৩৯ বছর বয়সী বাবা ১৩ বছরের মেয়েকে ৬ মাস ধরে রেইপ করছে। না পেরে মেয়েটা আত্মহত্যা করতে ঝাপ দিলো পুকুরে! সত্যিই , পৃথিবীটা কতো নিচে নেমে গিয়েছে! কিন্তু, আমাদের দেশে এই ঘটনা কেন ঘটলো এটা কেউ ভেবেছেন কি? ইন্টারনেট বলেন, ফেইসবুক কিংবা গুগলের প্লে ষ্টোর , কোথায় নেই পর্ণ পেইজ বা জঘন্য বাজে অ্যাপ্স? একটা ভালো ওয়েব পোর্টালে নিউজ পড়তে যাবেন? সেখানেও কোন কল গার্ল কে অনলাইন শো করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে!

আর চটি সাহিত্যের কথা আর কি বলবো! শুনেছি মা, বোন, খালা , মামি , নিজের আপন মেয়ে এমনকি টিচার কেও ছাড় দেয় না, নোংরা এসব গল্পে। আর যারা এসবের নিয়মিত পাঠক তারা কি পরিমাণ মানসিক বিকার গ্রস্থ হয়ে বাস্তবে এসব সাহিত্যের শিক্ষা প্রয়োগ করতে পারে তার জলজ্যান্ত প্রমাণ তো আপনারা দেখতেই পারছেন! আপনি ভাবতে পারেন, একটু দেখিনা ক্ষতি কি! আমি তো পূর্ণ বয়স্ক! কিন্তু একটা সময় আপনার চিন্তা চেতনাও এমন সব জিনিষ আপনাকে ভাবাবে যা আপনি স্বাভাবিক অবস্থায় ভাবতেও পারেন না।

এসবের কারনে সাফারার হচ্ছে ঘরে নিজের মেয়ে থেকে শুরু করে টিচার, মা, খালা এমনকি পথের একটা মেয়েও। বিভিন্ন রিসার্চ তাই বলে! বেশ কিছুদিন আগে , আমার ছাত্রী একটা মুভি দেখেছিল, হিন্দি। আমাকে বলল- আপু জানেন! এই মুভিটা এতো বাজে! একটা ১৪ বছর বয়সী ছাত্র তার সুন্দরী টিচার কে পেতে চায়! এই জন্য সেই টিচারের বয় ফ্রেন্ডকে মাইর ও দেয়! দেখুন, যেই সমাজের মুভি পিচ্চি বাচ্চাদের পর্যন্ত এসব দিকে মোটিভেট করে, সেই সমাজে গন ধর্ষণ, বাবার দ্বারা নির্যাতিত হওয়া, ভাইয়ের দ্বারা নিষ্পেষিত হওয়া হয়তো খুব কমন হতে পারে। কিন্তু আমরা? আমাদের এই সুন্দর মাতৃভূমি!

যেখানে পারিবারিক বিশ্বাস, বাবা মেয়ের স্নেহ শ্রদ্ধা পূর্ণ সম্পর্ক, বিশ্বাসের সুদৃঢ় বন্ধন! সেখানে কি নিজের বাবার সামনে এসব নিউজ সহ্য করা যায়? আপনি পারবেন, এভাবে অবিশ্বাসের নিদারুণ আঘাত সইতে, এমন পবিত্র সম্পর্কের উপর?

এখনি সময়, এসব অবক্ষয়ে ক্ষয়ে যাওয়ার আগেই নিজেকে এবং অন্যকে বাঁচান। পর্ণ সাইট, লিখা, চটি, অশ্লীল ভিডিও এসব দেখে মানসিক বিকার গ্রস্থ হবেন না।

পোস্টটি ৯১৯ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
৬ টি মন্তব্য

Leave a Reply

6 Comments on "পর্ণ মুভিকে না বলুন"

Notify of
Sort by:   newest | oldest | most voted
সঞ্চিতা
Member

চটি সাহিত্তে অভ্যস্ত প্রতিটি মানুষ নারীকে এক খণ্ড মাংসভাবে। সুন্দর লিখেছেন

চক সিলেট
Member

চমৎকার লিখন! আজ কাল স্কুল গোয়িং নাবালক-নাবালিকা পর্ণ মুভিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। অর্থহীন ফাস্ট জেনারেশনের কাছে কি আশা করব তাহলে?

ওসি সাহেব
Member

স্কুল-কলেজের স্টুডেন্টরা এসব নাকি মোবাইলে নিয়ে ঘোরে? কি হইতাছে এইসব ? শুনেছি গভমেন্ট ঘরে ঘরে ডিজিটাল প্রযুক্তি/ইন্টারনেট সুবিধা দিয়েছে তার কল্যানে কি এসব?

রাহনুমা সিদ্দিকা
Member

সচেতনতামূলক চমৎকার পোস্টের জন্য ধন্যবাদ আপু।

স্বপ্ন ফেরিওআলা
Member

সময়ের উপযোগী পোষ্ট। আমি গ্রামাঞ্চলে থাকি। এখানকার অবস্থা আরো ভয়াবহ। প্রতিটা কম্পিউটারে অজস্য সংগ্রহ। আর ছেলে বুড়ো সবাই এর ভোক্তা। একবার এর বিরুদ্ধে লেগে আমি সব কমি্পউটার ব্যবসায়ীর শত্রু হয়ে গেছিলাম্। সে ক্ষত এখোনো শুকাই নি।

wpDiscuz