এক শর্তে করতে পারি বিয়ে।
লিখেছেন সাফওয়ানা জেরিন, মে ১৩, ২০১৪ ৯:১২ অপরাহ্ণ

 

– এক শর্তে করতে পারি বিয়ে।

বলেই মেয়ে মুখ ঝামটা দেয়। পাত্রী দেখতে এসেছে পাত্র পক্ষ। আলাপ চারিতার জন্য ছেলে মেয়েকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মেয়ে সব দিক দিয়েই রাজি, কিন্তু হটাত আবার শর্ত দিচ্ছে।
মেয়ে একটু ঘাড় ত্যাড়া প্রকৃতির। কিন্তু, ছেলের একটু বেশী পছন্দ হয়েছে। এই মেয়েকেই তার বিয়ে করা চাই। তাই,যেই শর্তই দিচ্ছে হ্যা হু করে মেনে নিচ্ছে ছেলে। এখন আবার বিশেষ একটা শর্ত দিতে চাইছে। ছেলে জানতে চায়
– কি শর্ত!
– বিয়ে করতে পারি, কিন্তু অন্তত বিয়ের ২ বছর পর্যন্ত প্রেম করতে হবে। আমার কাছে ধারে আসতে পারবেন না। দূরে দূরে থাকবেন। রাজি থাকলে বলেন।
ছেলের মাথায় হাত। এই সিস্টেম সে কোথা থেকে আবিষ্কার করলো সেটা জানতে চাইলো ছেলে
– এটা আবার কেমন কথা! দূরে দূরে থাকলে বিয়ে করবো কেন?
– ও আপনি বুঝি অমুক হিন্দি সিরিয়াল দেখেন নি! ওরা বিয়ের ২ বছর পর্যন্ত একজন আরেকজনকে বুঝেছে। অমুক সিরিয়ালে ৫ বছর ও ছিল। সারাজীবনের জন্য এতো টুকু ত্যাগ তো করাই যায় তাইনা? নাইলে একজন আরেক জনকে বুঝবো কীভাবে?

পাঠক, এটা একটা সত্য ঘটনা। হিন্দি সিরিয়াল যে শুধু বস্তা পচা তাই ই না, হিন্দি সিরিয়াল চরম অবাস্তব একটা আবহ তৈরি করে নারীর মনে। যা মেয়েদের মধ্যে এই ধরনের মানসিকতা ও তৈরি করে দিচ্ছে। অবাক হচ্ছেন!
আর যারা সারাক্ষন সিরিয়াল দেখে তারা বাস্তব জগতে কমই বিচরন করে। কেউ কেউ নাকি জামার ডিজাইন শিখার জন্য ও সিরিয়াল দেখে, যদিও প্রতিদিন এতো এতো নতুন কাপড় বানিয়ে পড়া সম্ভব ও না।
জীবনটা আসলে সিরিয়াল ও না, সিনেমার গান ও না। গানে যেই আবেগ, সিরিয়ালের দূরে থাকায় যেই রোমান্স , বাস্তব জীবনে তা সুদূর পরাহত। এখানে , দূরে থাকলে, রাগ করলে, ঝগড়া ঝাটি হলে কেউ দুঃখের গান ছেড়ে দিবে না।
একটা কথা ভালোবাসার মানুষ বললে কেউ ষ্টীল পিকের মতো ৫ মিনিট তাকিয়েও থাকবে না। বিভিন্ন এঙ্গেলে ক্যামেরা আকিয়ে বাকিয়ে কেউ বিশেষ আবেগের উত্থানের প্রয়াস ও ঘটাবে না।
এটা বাস্তব জীবন, এখানে দিনে ৩ বেলা ভাত খাওয়ার জন্য মানুষকে কাজে যেতে হয়, রান্না বান্না করতে হয়, আর জীবনের প্রয়োজনেই এক সাথে থাকতে হয়।
সিরিয়ালের মতো সারাদিন একজন আরেকজনের চিন্তায় আকুল হয়ে থাকলে পেটে ভাত জুটবে না। আর সিরিয়ালের মতো বেশির ভাগ মানুষেরই নিশ্চয়ই নবাব জাদার সাথে বিয়ে হবেনা! যে সকালে অফিসে যেতে হবেনা, রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে হবেনা।

বস্তায় বস্তায় টাকা লাগবে এমন লাইফ স্টাইলের জন্য। কিন্তু আপনার পারিবারিক জীবন সম্পর্কে যে জঘন্য আউট লুক, ঝগড়া ঝাটি, কানাকানি, চোগল খুরী ফ্রি শিখাচ্ছে, এমন অসভ্য সংস্কৃতি পৃথিবীতে কমই আছে। এরচেয়ে , একটা গল্পের পড়লেও সময়টা অপচয়ের হাত থেকে বেঁচে যায়।
বিশেষ করে অবিবাহিত মেয়েরা, যারা টুকটাক সিরিয়াল দেখা ছাড়তে পারছেন না, তাদের মানসিকতা বদলে দিতে পারে সিরিয়াল যে কোন সময়ই। সুতরাং

সাধু সাবধান 

পোস্টটি ৪৮৪ বার পঠিত
 ৩ টি লাইক
৩ টি মন্তব্য
৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. খোদা! দুই বছর? এই বেচারী এতোদিইন বসে বসে কি করলো?

  2. ইয়ে মানে,আধুনিক মেয়ে তো!!তাইইই……!! :lol: :lol:

  3. ক্যাপশনটা খুব ভালো লেগেছে। ;)

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.