আত্ববিশ্লেষন
লিখেছেন রোমান, জানুয়ারি ২৪, ২০১৬ ৫:১২ অপরাহ্ণ

এই সুন্দর পৃথিবীতে আমার জন্ম নিষ্ফল কোনো কর্মপরিকল্পনা নয়। মহা চিন্তার বিধায়কের সুনিপুণ কর্মকুশলতার ফল আমি।এটা আত্ববিশ্লেষনের প্রথম মূলমন্ত্র। “কোথায় ছিলাম, কোথায় আছি এবং কোথায় আমার শেষ ঠিকানা” তা আমার বিশ্লেষন পরিধিকে প্রসারিত করে। আমি এমন একজন সৃষ্টি, বিচারিক আদালত আমার সাথে। যে আদালতের হাকিম আমি নিজেই। শত মিথ্যায় আশ্রিত হাজার উকিলের উকালতিও যেখানে ঠায় নাই। “বিবেক” নামক সে আদালত আমায় সব সময় নির্দেশনা দিচ্ছে, কোনটি ন্যায়, কোনটি অন্যায়।

আবেগের তারনায় বিবেক অনেক সময় চুপ থাকে, কিন্তু নিবৃত হয় না। পরক্ষনে ঠিকই আমায় সত্যটা বলে দেবার চেষ্টা করে কিন্তু আমি হয়ত তা গ্রহন করি না। সে দায় সম্পূর্ণ আমার, বিবেকের নয়। দায় এড়াবার কুমতলব যখন বেশী হতে থাকে, বিবেক আমার সাথে অভিমান করে। অনেকদিন আমার সাথে কথা বলে না। আমি বুঝতে পারি, সবই বুঝি, তবুও আবেগ তারিত জীবন আমি নিয়ন্ত্রন করতে পারি না। ফলে বিবেকের সাথে অভিমান আমার বাড়তে থাকে।

আবার কোন এক রজনিতে বিছানায় গিয়ে যখন আমার ঘুম হয় না, আমি তখন বুজতে পারি “বিবেক” তার অভিমান ভেঙ্গে আমায় শুধরাতে চায়! আমি তার কথায় সায় দিয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ হই। দু নয়ন বেয়ে অশ্রুতে আমার গলা ভিজে যায়, নিচে বালিশ অবদি! বিবেক মুচকি হাসিতে আমায় শান্তনার বানী শুনায়- তোমার কোনো ভয় নেই বাচা, উনি বড় দয়াবান, তোমায় নিশ্চয় দয়া করবেন। এক্ষেত্রে তোমার ইচ্ছাই যথেষ্ট, তুমি তোমার কৃত ওয়দার ওপর অটল থাক।

একটুখানি ঢোক গিলে আমি শান্ত হই। গা ঝেরে লেপ কে সরে দিয়ে শীতের ঠান্ডা পানি দিয়ে পবিত্র হই। অতঃপর জায়নামাজে মাথা ঠেকিয়ে আবারও আমার ক্রন্দনে গোটা আকাশ-বাতাশ নিস্তব্ধ! ঐশী কর্তা ঠিক আমার সামনে। তিনি মুগ্ধ, বিমোহিত, আনন্দে আন্দোলিত হয়ে গর্বের স্বরে সবাই কে জানিয়ে দেয়- দেখ আমার বান্দা নিজের ভুল বুঝতে পেড়ে আমায় কিভাবে স্বরণ করছে! আমার প্রিয় সৃষ্টির এমন ক্রন্দনে আমার কষ্ট হয় রে! আমি পারি না সহ্য করতে। এবার ওকে ক্ষমা করে দিয়ে তবেই আমার প্রকৃত আনন্দ! অবশেষে উনিও আমায় বলে- বাচা এবার তুই ঘুমোতে পারিস, তোর পূর্বের সব অপরাধ আমি মার্যনা করেছি। “অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, রহস্যবিদ” ( নিসা-১৭)।
তবে তোর স্বজাতির সাথে কথা, আচরন কিংবা অর্থের লেন-দেন থাকলে তা তুই মিটিয়ে নিস। ও আমারও সাধ্যের বাহিরে!

এবার আমি প্রশান্তচিত্তে একটু ঘুমতে যাই। খানিক পরেই আবার আমায় কে যেন ডাকছে দুর থেকে। সুন্দর সে আওয়াজ। প্রতিটি বাক্য কত সুমধুর! আমার ছুটে চলা সে ডাকে সাড়া দিতে মসজিদ পানে। সালাত আদায় শেষে আমায় নির্দেশ দেয়া হচ্ছে “এবার তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পর”। উহ কতই না সুন্দর এর প্রতিটি বিধান! আমি আনন্দচিত্তে বেড়িয়ে পরি। আমার হৃদয় আজ অনেকটাই পরিচ্ছন্ন। আর পরিচ্ছন্ন হৃদয়ের প্রতিটি কাজই যে আলাদা আনন্দ দেয় তা আমি আজ অনুভব করছি। আল্লাহর জিকিরই অন্তকনরনকে প্রশান্ত করে ( রা’দ – ২৮)।

পরিকল্পনা মাফিক প্রতিটি কাজ সেড়ে আমার পথ চলা এখন ভার্সিটির কোলাহলে। বড়ই চ্যালেঞ্জ আমার সামনে। আমি শপথ নিয়েছি- আর কখনই মিথ্যা বলব না, একদম না। মিথ্যা সকল পাপের মূল। কথা ও আচরনে কাউকে কষ্ট দিব না। পূর্বের আচরনের জন্য সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেব। না খেয়ে থাকব তবুও ঋন করব না, কারন আমার মৃত্যু কখন হবে আমি বলতে পারি না। সাধ্যের মধ্য থেকে স্বপ্ন দেখব, অযথাই আশাতিত স্বপ্ন নিয়ে ঘুম হারাম করব না। লেখাপড়াসহ আমার সব আয়োজন মনবতা ও দুনিয়াবাসির কল্যানে যার একমাত্র প্রতিদান শুধুই একজন দিবেন। আমার বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ করব, রিজিক তো তিনিই দিবেন তা নিয়ে আমার এত মাথা ব্যথা নেই। আমি তার নির্দেশিত পথে কাজ করে যাব মাত্র। আধুনিক সভ্যতায় পর্দার ভায়োলেন্স জাহান্নামে নেবার অন্যতম মাধ্যম, সুতরাং তা খুব খুব ভাবে রক্ষা করা আমার অন্যতম কর্তব্য বলে মনে কবর। ঘরে- বাহিরে, আত্মীয়- অনাত্মীয়, খেলার সাথী -পড়ার সাথী সব ক্ষেত্রে এটা আমায় খুব গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। যদিও তা এ সময়ে খুব কঠিন। অনেকি অযাচিত মন্তব্য করে বসবে, আনসোসাল, আনস্মার্ট, ব্যাকডেটেড, অহংকারী ইত্যাদি বিষেশনে বিভুষিত করবে। শুনতে আমার কাছেও খুব খারাপ লাগবে। কিন্তু না তবুও কেহ আমায় এ ক্ষেত্রে বাধা হতে পারবে না ইনশা আল্লাহ। কারন আমার সব কিছু এখন শুধুই আল্লাহ জন্য। তিনিই আমার উত্তম বন্ধু!!

# মুমিনদের জীবনে বিভিন্ন কিছু দিয়ে পরিক্ষা করা হয়, ধৈয্যশীলদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ।( বাকারা-১৫৫)

# আল্লাহ তার উপর নির্ভরশীল মানুষদেরই ভালবাসেন।( ইমরান-১৫৯)

# যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহই তার সকল সমস্যা সমাধানের একটি পথ বেড় করে দেন।( ত্বলাক-২)

# তারা আপনার কোনো উপকার করতে পারবে না, নিশ্চয় যালিমরা একে অপরের বন্ধু। আর আল্লাহ তো মোত্তাকীদের বন্ধু। (জারিয়া-১৯)

পোস্টটি ৮৮৯ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.