বৈবাহিক বিষন্নতাঃ
লিখেছেন FM97, জুন ২৪, ২০১৫ ৩:৫১ অপরাহ্ণ

দুই বছর আগের কথা। একটা ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়েছি। তো, পরীক্ষাকেন্দ্রের গেট তখনও খুলে নি। সময় কাটানোর জন্য পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার সাথে কথা বলা শুরু করলাম। এক পর্যায়ে পরিবার নিয়ে কথা উঠে। বললাম- “আমি সিঙ্গেল, আপনি”? মুখে কিছুটা বিষন্নতার ছাপ রেখে বললো- “হুম… সিঙ্গেল থাকাই ভালো। আমি মেরিড”।

যাই হোক- এই মেয়েটার মতো অনেককেই দেখেছি, বিবাহিত হয়ে বৈবাহিক জীবনকে ভালো বলেন না। অসন্তুষ্টতা প্রকাশ করে অবিবাহিতদেরকে পরোক্ষভাবে ‘বিয়ে’ বিষয়ে ভয় দেখান, নিরুৎসাহিত করেন। মূলত- বিবাহিত হয়েও আমাদের মধ্যে বিষন্নতা, হতাশা; কাজ করে বিভিন্ন কারণে-

১/ ভুলটা করি বিয়ের আগেই। মা-বাবা হোক বা স্বয়ং নিজেই- জীবনসঙ্গী পছন্দ করি ছেলের উপরি হাভ-ভাব দেখে। মালদার পার্টি (ধনী) কিনা- এসব দেখে। অথচ, ধার্মিকতা ও উন্নত মানসিকতা- যে দুটো জিনিস একটা ছেলেকে স্ত্রীর অধিকারের ব্যাপারে সচেতন করে- সেটা একটা ছেলের মধ্যে আমরা দেখি না।

২/  আমরা এমন ধারণা নিয়ে থাকি যে-  আমি যেমন আমার জীবনসঙ্গী তেমনই হবে। সবকিছু মিলবে। কোনো কিছুতে অমিল হওয়া মানেই – ‘আমি অসুখী, আমি নির্যাতীত’!

৩/ সংসার হচ্ছে একটা মানুষের জন্য open challenge. যে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অনেকেই ব্যর্থ হয়ে যায়। কারণ- অধৈর্য, সমঝোতার অভাব ও নিজেকে অদৃশ্য প্ররোচনায় নিমজ্জিত করা।  দেখুন- আমরা সবাই জানি- বিয়ে মানুষের দৃষ্টিকে সংযত করে, চরিত্র উন্নত করে, অশ্লীলতা ও পাপাচার করতে বিবেককে বাঁধা দেয়। আর এতো কিছু জিনিস যখন একটা বিয়ের মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যায়, তখন মানুষের চির শত্রু শয়তান, ভিন্ন পথে এসে মনকে বিপথগামী করে, মনে অশান্তি সৃষ্টি করে, জীবন নিয়ে চাওয়া-পাওয়া সংক্রান্ত উদাসীনতার জন্ম দেয়। আর আমরা এও জানি যে- শয়তান সবচেয়ে বেশি খুশি হয় যখন সে বৈবাহিক জীবনে ভাঙ্গন ধরাতে পারে।
সুতরাং, অদৃশ্য শয়তানের এই ষড়যন্ত্রকে (আমার মতে) নিম্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে অতিক্রম করা যায়-

১/ অল্পে তুষ্ট থাকা। নিজের মধ্যে একটি কৃতজ্ঞ মনকে লালন করা।
২/ রাগ কিংবা ভালোবাসা- কোনোটাতেই সীমালঙ্ঘন না করা।

৩/ এটা বিশ্বাস রাখতেই হবে যে- মানুষের অবস্থান- সেটা দৈহিক, মানসিক কিংবা শারীরিক হোক- সব সময় এক রকম থাকে না। তাই কখনো নিজের মতো অপরপক্ষ থেকে না পেলে- ‘সে আমাকে avoid করছে’  হুট করে এমন ধারণা পোষণ না করা।

৪/ কোনো বিষয়ে সন্দেহ জাগলে খোলামেলা আলোচনা করা। মনে চেপে না রাখা।

৫/ পাওয়া- না পাওয়া; সবকিছুতে আল্লাহ’র ওপর ভরসা রাখা। আল্লাহ আমাদের ভাগ্যে এই পৃথিবীর যেটুকু সুখ রেখেছেন- কেউ তাকে আমার থেকে ছিনিয়ে নিতে পারে না- এই মনোভাব রাখা। তাছাড়া ‘…মু’মিনদের আল্লাহ’র প্রতি নির্ভর করা উচিত’ (সূরা ইমরান, আয়াত- ১৬০)

সুতরাং, আশা করা যায়- বিয়ে পরবর্তী তথা বৈবাহিক জীবন নিয়ে আমাদের মধ্যে বিষন্নতা কাজ করবে না। বরং যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেয়ার মতো বিচক্ষণতা থাকবে। সেই সাথে থাকবে জীবনের ছোট ছোট স্মৃতি পুঁজি করে আল্লাহ’র প্রতি সন্তুষ্টতা এবং সমাজের প্রতি উৎসাহী বার্তা।

পোস্টটি ৫৩৭ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
৮ টি মন্তব্য
৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. বিয়ে নিয়ে অপরকে নিরুৎসাহিত করা, হোক সে ছেলে অথবা মেয়ে এখন আমাদের সমাজে একটা ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার পরিণতিতে অনেক আপত্তিকর ইস্যু লক্ষণীয়।আসলে মূল সমস্যা কোথায় সেটাই বিবেচনার বিষয়। সময়োপযোগী পোষ্ট। ভাল লাগল। :)
    আর একটা কথা। সম্মানিতা ব্লগারকে অনেক দিন পর পেলাম। এতটা সময় আসেননি যে? মিস করেছিলাম খুব।

  2. আপনাকে ছাড়া ব্লগ জমে না আপু … :) । ও… মিষ্টি মুখ কবে করাচ্ছেন? :P

  3. মিনার মিঠু খালি চেঁচাচ্ছে গো… ও বিয়া বিয়া বিয়া! :-V :-D

  4. খুব দরকারী এবং উপকারী পোষ্ট। আল্লাহ আমাদের সকলকে বুঝার তউফিক দিক আমিন….

  5. যেসব মেয়েদের কাছে স্বামী সংসার ঝামেলা মনে হয়,সাংসারিক কাজকর্ম থেকে দূরে থাকতে চায় সেসব মেয়েদের বিয়ে না করাই উচিৎ….কি দরকার স্বামী তথা অন্যদের বিপদে ফেলানোর…

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.