ওদের প্রতি নৈতিক শিক্ষা…
লিখেছেন FM97, জুলাই ৬, ২০১৫ ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ

কথোপকথন হচ্ছে আমার আর কাজের বুয়ার মধ্যে। কথাটা আমিই শুরু করেছি। উদ্দেশ্য তাকে নামাজের কথা বলা। কারণ, অধিকাংশ কাজের লোকদের দেখা যায় নামাজ পড়ে না। তবে, হ্যাঁ, এটাও ঠিক যে- এরা হলো খেটে খাওয়া মানুষ, পেটে খাবার না থাকলে নীতি কথাও মাথায় থাকে না। । তবে এরা যখন আমাদের অধীনে কাজ করে, তখন আমাদেরও দায়িত্ব থাকে মানুষ হিসাবে তাকেও ভালো শিক্ষা দেয়া।

সে যাই হোক- একদিন কাজের বুয়ার সাথে এদিক-সেদিকের কথা শুরু করলাম। বিশেষ করে তার (যেহেতু সে ছুটা বুয়া) সারাদিনের রুটিন নিতে চাচ্ছিলাম, কাজ করতে কয়টা বাজে, যেখানে ভাড়া থাকে সেখানে ফিরে কয়টায়-ইত্যাদি। এদিকে যখন সে তার ব্যস্ততার প্রসঙ্গ তুলে একেবারে বিকেলে বাড়ি ফেরার কথা বলে, তখন কথার মাঝে নামাজের কথাটা তুলে বসলাম। । তবে দেখলাম-  আমি যখন নামাজের প্রসঙ্গ তুললাম তখন চুপ হয়ে গেলো। একটু পরে আবার নিজ থেকেই বললো- (হেসে) “গেরামেতে … থাকতে কতো নামাজ পড়তাম…”
তখন বললাম- হ্যাঁ, যখনই সময় পাবেন, তখনই পড়ে নিবেন।

মনের ভিতর কেমন জানি একটা শান্তি অনুভব করলাম। শান্তিটা এই কারণে ছিলো যে- আল্লাহ নামাজ কায়েমের কথা উল্লেখ করেছেন, আর আমি কিছুটা হলেও আলহামদুলিল্লা এটা করতে পেরেছি। অন্যকেও নামাজ পড়ার কথা বলতে পেরেছি।

এবার সমাজের অবস্থা যদি তুলে ধরি তাহলে দেখা যাবে-এমন অনেক পরিবার আছে যারা কাজের মেয়েকে দিয়ে সারাদিন কাজ করায় অথচ তাকে দ্বীনি শিক্ষা, নামাজ শিক্ষা দেয় না। তাই অনেক সময় তারা চারিত্রিকভাবে খারাপ হয়ে উঠে, অপরাধ করে বসে। তবে হ্যাঁ, এটাও ঠিক যে- ছুটা বুয়ার চেয়ে বান্দা বুয়াকে নৈতিক শিক্ষা দেয়ার সুযোগ হয় বেশি। তবে, সুযোগটা সবার জন্যই উন্মুক্ত করা যায় যদি আমরা মাসিক ভিত্তিতে হলেও পরিবারের সবাইকে নিয়ে (কাজের বুয়াসহ) ধর্মীয় লেকচারের আয়োজন করি। তাহলে হয়ত- একসাথে দুটা কাজ হবে- ১/ ধনী-গরিবের পার্থক্য ভুলে কাজের লোকদের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে। ২/ ভালো কিছুর প্রচার হবে।

পোস্টটি ৩২৬ বার পঠিত
 ২ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.