অবিশ্বাস্য চমকে দেওয়া ৭-১ এর পেছনের ২০ কারণ!
লিখেছেন চক সিলেট, জুলাই ১২, ২০১৪ ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

অবিশ্বাস্য চমকে দেওয়া ৭-১ এর পেছনের ২০ কারণ!

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে চমকে দেওয়া ম্যাচের স্বীকৃতি পাবে হয়তো এটাই৷ হয়তো ফুটবল ইতিহাসেও৷ অবিশ্বাস্য স্কোর লাইনের ম্যাচ ঘিরে অজস্র প্রশ্নের মধ্যে সবচেয়ে বড় দুটো টেকনিক্যাল প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা হলো৷ যা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় চলবে আরও বহু যুগ৷ ব্রাজিল এ ভাবে ধ্বংস হলো কেন? জার্মানিই বা এ ভাবে ব্রাজিলকে নিয়ে তাদের ঘরের মাঠে ছেলেখেলা করল কী করে? দুটোরই কেন্দ্রে মূল কারণ হয়তো ফোকাস ধরে রাখতে না পারা এবং ফোকাস ধরে রেখে নিখুঁত হোমওয়ার্ক করা৷

ব্রাজিলের হারের ১০ কারণ:

১) স্কোলারির প্রথম এগারো একেবারে ভুলে ভরা৷ স্থানীয় ছেলে বার্নার্দকে নামিয়ে ফাটকাটা কাজে লাগেনি৷ ডিফেন্স জোরদার করাটা জরুরি ছিল৷ যেখানে যে ডিফেন্সের জোরেই ব্রাজিল এতদূর গিয়েছে৷ উইলিয়ান, রামিরেজ, পাওলিনহোর মধ্যে অন্তত দু’জনকে দরকার ছিল দুর্গ জমাট রাখতে৷

২) আলজেরিয়া বা ঘানা এবার জার্মানিকে বিপদে ফেলেছিল রক্ষণ জমাট করে প্রতিআক্রমণে৷ এতদিন রক্ষণে জোর দিয়ে আসা স্কোলারি কেন শুরু থেকে হঠাত্ মুক্তকচ্ছ হয়ে আক্রমণে গেলেন, প্রশ্নটা উঠবে৷ জার্মানরা এটারই অপেক্ষা করছিলেন৷ চাপটা নিয়ে তারা প্রতিআক্রমণে গেলেন চমত্কাটর৷

৩) অঙ্কের চেয়ে আবেগকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বেশি৷ নেইমারের জার্সি নিয়ে নামা৷ তার জন্য ফুটবলারদের বেসবল টুপি পরে আসা৷ জাতীয় সঙ্গীতের সময় গলা ছেড়ে গান করা৷ এ সব করে চাপটা নিজেরাই নিয়েছেন ব্রাজিলিয়ানরা৷ নেইমার নিয়ে ভাবতে গিয়ে জার্মানদের নিয়ে হোম ওয়ার্ক মার খেয়েছে৷ জার্মানদের কাউন্টার অ্যাটাক সামলাতে, মাঝমাঠ দখল করতে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি৷ ব্রাজিলের মাঝমাঠে কোনও বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাপারই ছিল না৷ তারা ডিফেন্স করতে পারত ভালো করে৷ সেটাও পারেনি৷

৪) প্রথম গোলের সময় একেবারে মার্কিং করা হয়নি মুলারকে৷ ওটা দাবিদ লুইসের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়৷ দ্বিতীয় গোলটা আরও শেষ করে দেয়৷ দুটো স্কুলছাত্র সুলভ ডিফেন্সিভ ভুল৷

৫) বায়ার্নের ব্রাজিলিয়ান স্টপার দান্তের দুর্বলতাগুলো জার্মান টিম জানত৷ সেটাকেই কাজে লাগানো হল৷ জার্মানদের কাউন্টার অ্যাটাক সামলাতে পারেনি কেউ৷

৬) নেইমারের থেকেও বেশি সমস্যা হয়েছে থিয়াগো সিলভার অভাবটা৷ টিমের সেরা ডিফেন্ডার না থাকা সত্ত্বেও লুইস, মাইকন বা মার্সেলো ও ভাবে ওভারল্যাপে গেলেন কেন প্রথম দিকে? মাইকনকেও ‘খনি’ করে নেন ক্রুসরা৷

৭) ২৩ মিনিটে ক্লোসের ২-০ একেবারে নিঃস্ব করে দেয় ব্রাজিলিয়ানদের আত্মবিশ্বাস৷ ৬ মিনিটের ভিতরে ৫-০৷

৮) নেইমারের চোটের ব্যাপারটা নিয়ে বেশি নাটক করতে গিয়ে, মেলোড্রামায় পুরো টিম জার্মানদের নিয়ে ভাবেনি৷ প্লেয়াররা বেশি সিরিয়াস হতে গিয়ে আত্মবিশ্বাস হারিয়েছে৷

৯) স্কোলারিরা বাড়তি আত্নবিশ্বাসে প্র্যাক্টিস পর্যন্ত করেননি এ মাঠে৷ প্র্যাক্টিস করে আসেন তেরেসোপোলিসের বেস ক্যাম্পে৷ তিনি সাংবাদিকদের ধোঁকা দিতে প্র্যাক্টিসে প্রথম দল উল্টে দিয়েছিলেন৷ শেষ পর্যন্ত ধোঁকা খেলেন তিনিই৷

১০) নেইমারের পরেই স্কিলের জন্য অস্কার বা বার্নার্দকে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তারা সেই যোগ্য নন৷ পরিণতিই আসেনি৷

জার্মানির জয়ের ১০ কারণ:

১) জার্মানরা প্রথম থেকে অত্যন্ত শান্ত৷ মাঠে ঢোকা থেকে শুরু করে, ব্রাজিলের প্রথম দিকের আক্রমণ সামলানোর সময়৷ কোনও তাড়াহুড়ো না করে, যন্ত্রের মতো প্রত্যেকে৷ নিখুঁত হোমওয়ার্ক, নিখুঁত ফোকাস৷

২) ব্রাজিলের প্রাথমিক আক্রমণ সামলে ঠিক সময়ে প্রতি আক্রমণে আসে তারা৷ আবেগের চেয়ে অঙ্ক কাজে লাগিয়ে৷

৩) বায়ার্নের ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার দান্তের মাইনাস পয়েন্টগুলো চমত্কাের কাজে লাগানো হয়৷

৪) ব্রাজিলের বাঁ দিকের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে, ও দিক দিয়ে সব আক্রমণ করে৷

৫) গোলগুলো ঠিক সময়ে তুলে নিয়ে চলে যায়৷ প্রথম দুটো গোল তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়৷

৬) ক্রুসের নেতৃত্বে মাঝমাঠে ব্রাজিলকে মুছে দেয় ২০ মিনিটের মধ্যেই৷

৭) অনেক ফোকাসড ছিল তারা৷ ব্রাজিল যখন এ মাঠে আগের দিন প্র্যাক্টিসই করেনি, জার্মানরা অনেকক্ষণ প্র্যাক্টিস করেছেন৷ স্টেডিয়ামে এসেই মাঠে ঘুরে গিয়েছে দল৷ ওয়ার্ম আপের সময়ও দেখা গেল, অনেক আগে ঢুকে ব্রাজিলিয়ানদের পরে বেরোল৷ গ্যালারির বিদ্রুপেও ফোকাস হারায়নি৷

৮) ঠিক সময়ে পুরো দলকে তুলে এনে ব্রাজিলিয়ানদের আরও চাপে ফেলে দিয়েছে।

৯) দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম দিকে ব্রাজিল যখন সামান্য চাপ দিয়েছে, তখন কিপার ন্যুয়ার চমত্কারর খেলেন৷ শার্লের বদলটাও দারুণ সময়ে৷

১০) জোয়াকিম লো ভালো হোমওয়ার্ক করে আগের দিন কলম্বিয়া ম্যাচে ব্রাজিলের ‘ভয়ঙ্কর’ ট্যাকলের সমালোচনা করেছিলেন৷ বলেছিলেন, ফাউলগুলো সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে৷ এতে দুটো কাজ হয়৷ রেফারি চাপে থাকেন৷ ব্রাজিলিয়ানরাও চাপে থাকেন৷ শুরুতে ব্রাজিল যে চিরায়ত ডিফেন্সিভ না খেলে যে আক্রমণে যাওয়ার ভুল করল, তার কারণ হয়তো এটাই৷

১০০ তে কত পাবে দুটো দল জার্মানি ৮৪ নুয়ের ৮, লাম ৮, বোয়াতেং ৬, হামেলস ৭, বেনেদিক্ট ৬, সোয়াইনস্টাইগার ৮, ক্রুস ৯, মুলার ৮, খাদিরা ৮, ওজিল ৮, ক্লোসে ৭ তাদের পরিবর্ত আন্দ্রে শুর্লে অসাধারণ৷ বাকি দু’জন মার্টেসেকার, ড্রেক্সলার ভালোই৷ ব্রাজিল ২৯ জুলিও সেজার ৪, মাইকন ৩, দান্তে ১ লুইস ৩, মার্সেলো ২, গুস্তাফো ৩, ফের্দান্দিনহো ২, বার্নাদ ৩, অস্কার ৪, হাল্ক ২, ফ্রেদ ২ তাদের তিন পরিবর্ত উইলিয়ান, রামিরেজ, পাওলিনহো প্রথম এগারোর থেকে ভালো৷ 

Source: Deshe-bideshe

পোস্টটি ২৬৩ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
৪ টি মন্তব্য
৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. পড়ে গেলাম। আহা! খেলার একটুও যদি বুঝতাম!!

  2. প্রতিবারই বিশ্বকাপ জেতার পিছনে এমন অনেক কারন আড়ালে থেকে যায়।

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.