হুজুর একটু পানি পড়া দেনতো!
লিখেছেন বাংলার দামাল সন্তান, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৫ ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ

1438254743

–হুজুর! একটু পানি পড়া আর একটা তাবিজ দেন।
কেনো, কি সমস্যা? পোলাডা কথা শুনেনা হুজুর!
আমাদের খেদমতও করতে চায়না। এত কস্ট কইরা
লেখাপড়া শিখাইছি। শিক্ষিত মেয়ে দেখে বিয়েও করাইছি। কিন্তু সে এখন আমাদের ঠিকমতো খোজ খবর নেয়না। কয়দিন আগে ঝগড়া করে বউ নিয়া আলাদা থাকে।

হুম… বুঝতে পেরেছি আপনার ছেলের নাম কি? কি কাজ করে? জে, পোলার নাম শাহরিয়ার নাজিম। ঢাকার একটা মাল্টি ন্যা্শনাল কোম্পানীতে চাকুরি করে। মোটা অংকের অনেক বেতন পায়।
–বুঝলাম, আপনার অভিযোগ ছেলেকে লালন পালন করে বড় করেছেন, অনেক টাকা-পয়সা খরচ করে লেখা পড়া শিখিয়েছেন। আর সে এখন মোটা বেতনে চাকরি পেয়ে বিয়ে করে বাপ মাকে অর্থাৎ আপনাদের ছেড়ে আলাদা হয়ে গেছে, এই তো?
–জি, জি হুজুর একদম ঠিক কথা বলেছেন ! আমরা তো বুড়া হয়ে গেছি কিন্তু ছেলে আমাদের কোন কর্তব্যই আদায় করতেছে না। টাকা পয়সাও দেয়না।
–হুম, আপনারা আগে ছেলের হক ঠিকমতো আদায় করেছেন তো!
–কি কন হুজুর! সবই তো করছি!
–হুম…আচ্ছা একটা কথা বলুন তো মুরুব্বী! আপনার ছেলের জন্মের পর তার ডান কানে আযান বাম কানে একামত দিয়েছেন? কিংবা দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন?
–না…তা তো দেইনাই হুজুর!
–আচ্ছা, আপনার ছেলেকে কি সাত বছর বয়সে নামায শিক্ষা, কুরআন শিক্ষা দিয়েছিলেন?
–স্কুলের পড়া নিয়া সবসময় ব্যস্ত থাকতো হুজুর! প্রাইভেট, কোচিং, কম্পিউটার ক্লাস এই গুলোর কারনে ঠিকমতো শিখার সময় পা য়নাই, তো মক্তবে গিয়ে একটু শিখছে। কোনরকম পড়তে পারে। তো এখন আর পড়ে না।
–ভাল কথা, আচ্ছা বলুন তো দশ বছর বয়সের পর নামায না পড়ার কারনে কয়দিন শাসন করেছেন? কয়দিন প্রহার করেছেন?
–কি হুজুর! নামাজের জন্য ১০মাস ১০দিন যে সন্তানের জন্য কষ্ট করেছি তার গায়ে হাত দিব!? ছেলেকে কোনদিন একটা চড় পর্যন্ত মারিনাই হুজুর! বড় আদরের ছেলে ছিল আমার!
–হুম…ছেলেকে যেই মেয়ে বিয়ে করিয়েছেন সে মেয়ে কি পর্দা করে? নামায পড়ে?
–এই মোটামুটি পর্দা করে আরকি! নামাজ মাঝে মাঝে পড়ে। তবে টিভি দেখার অভ্যাস খুব বেশি হুজুর!
স্টার জলসা, জি-বাংলা নামে কি যেন টিভি চ্যানেল আছে, সেগুলো দেখে ২৪ঘন্টা।
–হুম…আশ্চর্য! আপনি দেখি তেতুল গাছ লাগিয়ে আংগুর ফল খাওয়ার আশায় আছেন!
–ঠিক বুঝলাম না হুজুর!
–আপনারা বাপ মা ই তো সন্তানের হক নষ্ট করেছেন আগে!
–কি রকম হুজুর!
–তাইলে শোনেন, সন্তান জন্মের পর তার ডান কানে আযান, বাম কানে ইকামত দেয়া সন্তানের হক। কুরআন শিক্ষা সহ ধর্মীয় ফরয দ্বীনী ইলম শিক্ষা দেয়া সন্তানের প্রাপ্য হক ছিলো।
সন্তানকে নামায শিখানো ও তাতে অভ্যস্ত করা আপনাদের উপর কর্তব্য ছিল। দ্বীনদার পাত্রী বিয়ে করানো আপনাদের দায়িত্ব ছিলো। এইগুলার কোন হকটা আপনি সঠিকভাবে আদায় করেছেন? কোন দায়িত্ব ও কর্তব্যটা সঠিকভাবে পালন করেছেন?
–এমন করেতো কোনসময় চিন্তাও করে দেখিনাই হুজুর!
–হুম…সন্তানের এসব প্রাপ্য হক যখন আদায় করেন নাই বরং বঞ্চিত করেছেন, এখন সন্তানও আপনাদের হক আদায় করবে না, এটাই তো স্বাভাবিক। কাজেই এখন আর পানি পড়া আর তাবিজ নিয়া কি লাভ!! আমি এইসব দেই না। কথায় আছে – “কাঁচা থাকতে না নোয়ালে বাঁশ পাকলে করে ঠাস ঠাস!!”

পোস্টটি ১৬৪০ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.