নৈতিক শিক্ষা দিতে ভুলে যাচ্ছেন ‘মা’
লিখেছেন প্রত্ত্যুতপন্নমতি চারু, মে ৩, ২০১৫ ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

বাবা মা সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করবেই। এটাই দুনিয়ার নিয়ম । কিন্তু কথা হল আজ কাল বাবা মা সন্তানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে যেয়ে নৈতিক শিক্ষা দিতে ভুলে যাচ্ছেন। আধুনিক মায়েদের যখন জিজ্ঞেস করা হয় এই ব্যাপারে তখন তারা বলেন ‘জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে এমনি ই সব হয়ে যাবে।’ আসলেই কি এমনটা হয়? না এটা সম্ভব নয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে জানা যায় ৮ বছরের মধ্যেই শিশুদের নৈতিকতার ভিত্তি স্থাপিত হয়ে যায়। তাই ছোট থেকে তাদের নৈতিক শিক্ষা দেয়া উচিত।
আমি এখানে বাবা মায়ের সমালোচনা করতে হাজির হইনি বরং ১ টা গল্প দিয়ে আপনাদের সচেতন করতে এসেছি।এখানে হয়তো মা বাবা খুব কমই আছেন। তবুও সচেতন থাকতে দোষ কি!
“ ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে”
খুব ছোট কাল থেকেই এর উপর কমবেশি সবাই ই ভাবসম্প্রসারন লিখে আসছি। তাই আর ব্যাখ্যার দিকে জাচ্ছিনা।
এলাকায় ১ টা মেয়ে কে পড়াই আমি। ওর নাম ইফতি। মাত্র ১৩ বছর বয়স। ও যখন তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে তখন মায়ের কাছে বায়না করেছিল বোরকা পরার। ওর মা তখন কিছুতেই বোরকা দিবে না। আসল কথা হল তখন ওর ১ বান্ধুবি বোরকা পড়ে আসতো ওর খুব ভালো লাগতো। ইফতির আম্মু ওই মেয়ে থেকে ইফতি কে দূরে রাখার জন্য কামরুন্নেসায় ভর্তি করে দেয় । ওখানে ঢুকে ইফতির বোরকার শখ চিরতরে ছুটে যায়। কারন ও এখানে এসে জানতে পারে বোরকা খুব আন-স্মার্ট পোশাক। এখানে এসে সে আরও জানতে পারে এই বয়সে ২/৪ টা ছেলে বন্ধু না থাকলে বান্ধুবিরা পাত্তা দেয় না । সবার দেখাদেখি কেমন করে যে ও বদলে যায় তা ওর মা-বাবা , ভাই এমন কি ইফতিও টের পায় না।
মায়ের অনেক স্বপ্ন একমাত্র মেয়ে কে ডাক্তার বানাবে। কতো কি ভেবে রেখেছিলো অথচ শুধু একটু নৈতিক শিক্ষা দিতে পারেনি বলে আজ সব স্বপ্ন ভেস্তে যাচ্ছে। ইফতির এখন পড়ায় মন বসেনা , টিভি ছাড়া খেতে পারেনা , মাকে মা না বলে ‘মহিলা’ বলে! বাবার সাথে তো ওর কথাই হয় না ……
খুব কষ্ট পাই যখন ওকে দেখি। ওকে দোষ দেয়ার আমি কেউ না ওর বাবা মা কেও কিছু বলার নেই আমার। শুধু আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করি আল্লাহ্‌ যেন ওকে হেদায়াত দেন।
এই সমাজে এর চেয়েও খারাপ উদাহরণ আছে যা আমি আপনি কম বেশী সবাই জানি। যেমন – মা নামাজ পড়ে অথচ মেয়ে কে নামাজের জন্য ডাকে না , মা বরকা পড়ে অথচ মেয়ে কে বরকা পড়তে দেয় না। আল্লাহ্‌ সবাইকে হেদায়াত দান করুন।

Comments

comments

পোস্টটি ৪৩১ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
১ টি মন্তব্য