স্ত্রীকে মারা বা না মারা – ড. শাইখ আব্দুস সালাম আজাদী
লিখেছেন আহমাদ আল-সাবা, জুন ৫, ২০১৭ ১২:৩৭ অপরাহ্ণ
Domestic-Violence-The-Trent-45

সূরা নিসা এর ৩৪ ও ৩৫ নাম্বার আয়াত দ্বয় ব্যাখ্যা করতে যেয়ে একটু খানি ঝামেলায় পড়লাম। ইদানিং কালের কিছু নারীবাদী পুরুষরাই আমার ঝামেলার কারণ। তারা এই আয়াতের অর্থ করতে যেয়ে কেন যে মেয়েদের মত ‘জিনসুন না’ইম’ বা কোমল জেন্ডারে রূপান্তরিত হয়ে কখনো তাসলিমা নাসরিন হয়েছেন বা কখনো আমীনা অয়াদুদ সেজেছেন বুঝলাম না। এই আয়াত দুটোতে দাম্পত্য জীবনে চলার নীতিমালা বর্ণনা করা হয়েছে, এবং এইগুলো এত মুহকাম আয়াত যে তা বুঝতে যেয়ে গরুখোঁজা ‘গো-এষণা’ করার দরকার নেই।

 

দাম্পত্য জীবনে শান্তির একটা রূপরেখা আল্লাহ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন দুইজনের যে সংসার শুরু হয়েছে তাতে একজনকে সিদ্ধান্ত গ্রহনকারীর ভূমিকায় থাকতে হয়। এটা ইসলামের সনাতন রীতি যে, ইসলাম সব সময় সিস্টেমকে পছন্দ করে। ম্যানেজমেন্টের বাইরে গোলমেলে জীবন চালানো ইসলাম পছন্দ করেনা। বিয়ে হয় নিয়ম মেনে। এখন বিয়ের পছন্দের শুরু থেকে যেমন ভাবে পুরুষের মধ্যে একটা সিদ্ধান্ত গ্রহনের দায় দায়িত্ব মেয়েও দেয়, তেমনি বিয়ের পরেও ইসলাম মনে করে পুরুষকে সেই মর্যদা দেয়া উচিৎ। তাই তাকে ‘কাওয়াম’ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে ইসলাম। ক্বাওয়াম অর্থ যে বেশি বেশি দাঁড়ায়। এর সাথে ‘আলা’ শব্দ টার যুক্ত করে স্ত্রীকে ছায়া দেয়ার ভাব এনে দিয়েছে। মাথার উপর ছায়া হয়ে থাকবে। তারা আসলেই সহযাত্রী হলেও স্বামী থাকবে ছায়ার মত হয়ে। তার বিপদে, আপদে, গরমে শরমে, অসহায়ত্বের বন্যায় স্বামী পাশে থাকবে। অর্থের প্রয়োজনে স্বামী দৌঁড়াবে; অসুস্থ হলে স্বামী মাথায় হাতের পরশ দিয়ে ভালো করে তুলবে; মাওয়াদ্দাহ তথা ভালোবাসার স্বপ্ন দেখাবে; রাহমাহ তথা দয়ার পাথার হবে। কারণ স্বামীর মনে থাকে তেজ, ব্রেইনে থাকে সৃষ্টিশীলতা, ভাংতে ভাংতে রচনা করে বিশ্বসভ্যতার গতিপথ। সে বহির্মূখি, বাইরের বাতাসই তার মন আর মননে ঢেও তোলে সৃষ্টি সুখের।

 

স্বামীকে আল্লাহ এই দ্বায়িত্ব কেন দিলেন? কারণ স্বামীর শরীরে দেয়া হয়েছে বেশি কাজ করার শক্তি। ওর মাসল নারীর চেয়ে শক্ত। স্ত্রীর জরায়ূর সম্মানে তাকে অনেক দূর্বল করা হয়েছে। তার মন কে করা হয়েছে মখমল, আর জীবনকে করা হয়েছে সংসার কেন্দ্রিক। এটাকে আল্লাহ বলেছেন ‘বিমা ফাদ্দালা বা’দাহুম আলা বা’দ। আল্লাহ একজনকে অপর জনের চেয়ে একটু বড় করেছেন। আরেকটা কারণ হলো, নারীকে যেহেতু জীবনের ভূষণ বানিয়ে প্রেমের আরাধ্য করা হয়েছে। ফলে তাকে কষ্ট করে সংসার চালানোর বিপদে আল্লাহ ফেলতে চায়নি। এখনকার মত হাফ মুরোদী পুরুষদের আল্লাহ পছন্দ করেন না। আল্লাহ পছন্দ করেন স্ত্রীকে ভালোবাসার সব উপকরণ যোগাতে পারে এমন বীর্যবান পুরুষকে। যদি নারীর সব প্রয়োজনের টাকা পুরুষের কাছে থাকে, নারীকে আবার অতো কষ্ট করতে হবে কেন? আর ছোট বেলা থেকে দেখলাম, যারাই আমাকে অর্থনৈতিক ভাবে সাহায্য করেছে, আমার মন তার প্রতি কৃতজ্ঞতায়, ভালোবাসায় নুয়ে থাকে। আল্লাহ এই অতি প্রাকৃত বিষয়টা তুলে ধরেছেন তার ‘ওয়া বিমা আনফাক্বু মিন আমওয়ালিহিম’ বলে। অর্থাৎ পুরুষেরা মেয়েদের ভালোবাসার সরোবরে অর্থের সলিল ধারায় ঋদ্ধ করতে পারে বলে স্বামীকে একটু উপরে রাখা হয়েছে।

 

এখন আল্লাহ বলছেনঃ ভালোমেয়েরা স্বামীভক্ত হবার মত নরম মনের অধিকারী হয়, আল্লাহর দেয়া গোপন সৌন্দর্যকে সংরক্ষন করে। এইভাবে নারীপুরুষের মহামিলনে এগিয়ে চলে মানব ধারা।

 

এরপর আল্লাহ মানুষের অন্ধকার একটা জগতের কথা বলেছেন। সেখানে নারী পুরুষ সমান খারাপ হতেও পারে। স্বামী খারাপ হলে তার হুকুম তিনি খুলা’ তালাক সম্পর্কিত আয়াতে আলোচনা করেছেন। সেখানে জালেম স্বামী থেকে রেহায় পেতে স্ত্রীকে কিছু পথ বাতলে দেয়া হয়েছে।

 

কিন্তু এখানে আল্লাহ শুধু অবুঝ কিছু মেয়েদের নিয়ে আলোচনা করেছেন। যাদের একটা রোগ হয়েছে। যে রোগের নাম ‘নুশুয’। আমি আরবি ভাষাবীদ। তাজ্জব হয়ে যাই ‘নুশুয’ শব্দের অর্থের সাথে নারীপ্রকৃতির মিলগুলো গুণে গুণে।

 

‘নুশুয’ একটা রোগের নাম। এর শাব্দিক অর্থ উপরে ওঠার প্রবনতা। মানে সব কাজে স্বামীর চেয়ে নিজের প্রভূত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব, অর্থ বা রূপের গরিমা, জ্ঞান ও বংশের উঁচুতা, সামাজিক মর্যাদা ইত্যাদিতে নিজকে উপরে মনে করে। এই মানসিক রোগে স্ত্রী স্বামীকে শারীরিকভাবে কাছে ঘেষতে দেয়না। স্বামীর প্রতি তার মন দূর্বল করেনা। সব সময় স্বামীর চেয়ে দুইকাঠি উপরে মনে করে। তার আদেশ নিষেধের তোয়াক্কা তো নেই, যেই সব কাজে স্বামীর মন বিষিয়ে ওঠে তাই করতে থাকে সে। ঘরে থাকেনা মন, কাজে থাকেনা আন্তরিকতা, সন্তানে থাকে না কর্তব্য নিষ্ঠা। তার জগত থাকে অন্য পুরুষের সীমানার কাছে। অন্য পুরুষের খোটা থাকে স্বামীর প্রত্যাহিক পাওনা। নাকে থাকে কাল কেওটের ফোঁস ফোঁস, মুখে থাকে পদ্মগোখরার ছোবল, আর চোখে থাকে অনপনেয় বিষ। স্বামীর জীবন হয় একদিকে বাইরে কাজের কষ্ট, মানুষের আঘাত, কিংবা সংগ্রামের যুপকাঠ; আরেকদিকে ঘরের ভেতরে জাহান্নামের বহ্নিদাহ।

 

এই ক্ষেত্রে আল্লাহর সাজেশান হলো, হে স্বামী কষ্ট করে হলেও তুমি এই স্ত্রীকে তালাক দিওনা। ছেড়ে দিয়োনা। ওর যে অবস্থা, তাতে অন্য স্থানে গেলেও তার জীবনটা হবে তীব্র হলাহলে ভর্তি। বরং তুমি চারটা কাজ করে প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাও তাকে ধরে রাখার, আমি তোমাদের তাওফিক বা শক্তি যুগিয়ে যাবো। ‘ইউয়াফফিক্বুল্লাহ বায়নাহুমা’ শব্দে মুদারি’ বা বর্তমান ও ভবিষ্যত কালের শব্দ দিয়ে আমাদের বুঝাচ্ছেন চেষ্টা চালালে আল্লাহ তাওফীক্ব দিবেন। সেই চারটা কাজ হলো যথাক্রমেঃ

 

১। তুমি স্ত্রীকে কোমল কথা শুনাও। মন নরম করার সব উপকরণ ব্যবহার করো। কখনো আনন্দ দাও, কখনো টার্গেট সেট করো। কখনো গিফট দাও, কখনো সফর করো। ‘অয়াজ’ শব্দটা কিন্তু খুব ব্যপক। শুধু, ‘হেই মেয়ে, এই কথা শুনো, না হলে দোযখে যাবা’ এটা কে ওয়াজ বলেনা। ওয়াজতো হাবিল করেছিলো কাবিল কে। বলেছিলোঃ ভাই মারার জন্য হাত এগিয়ে দিলে আমি কিন্তু তোমাকে মারতে হাত বাড়াচ্ছিনা’। ওয়াজ করতে বলা হয়েছে। এটা দীর্ঘ প্রচেষ্টা। এখানে ভালোবাসা, চোখের পানি, প্রাণের স্পন্দন ও আবেগের আতিশয্য থাকে। মন গলিয়ে দেয়ার সব টেকনিক এখানে ব্যবহার করতে হয়।

 

২- হিজরাত করাঃ হিজরাত মানে ত্যাগ বা পরিত্যাগ করা। কথাবার্তা স্বাভাবিক ভাবে না বলা। আর এখানে বেডরূম ছেড়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এর অর্থ হলো স্ত্রীকে দূর করে না দিয়ে তার ভুল গুলো সুন্দর কথার মাধ্যমে শুধরিয়ে দিতে না পারলে দ্বিতীয় পর্যায়ে স্বামীকে যাওয়ার জন্য বলা হলো। এ পর্যায়ে স্ত্রীকে কথার স্বাভাবিক অবস্থা ও জীবনাচরণের স্বাভাবিক অবস্থা থেকে একটু ভিন্ন করতে বলা হয়েছে। তাদের সাথে প্রয়োজনে শারীরিক মেলামেশার পরিবেশ থেকে দূরে অবস্থান নিতে বলা হয়েছে। একজন নারী সত্যিকারার্থে স্বামীকে ভালোবাসলে তার শরীরের ছোঁয়া ছাড়া ঘুমাতে পারেনা। যখন এক, দুই, তিন এভাবে সপ্তাহ যায় স্বামীর সান্নিধ্য পায়না, সে স্ত্রী আসলে ভালো হলে বা এই বেচারাকে ভালো বাসলে, একটু খানি ভালোবাসার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে সে। রাগ অনেক কমে যায়। অভিমান অনেক বদলে যায়। ভুল বুঝাবুঝি কমে আসে। অনেকে স্বামীর একটু দেখা, হাসি ও কথা শোনার জন্য বাহানা খোঁজে। এদিকে স্বামীও যদি তার স্ত্রীকে আসলে ভালোবাসে, তাহলে স্ত্রীর এই মানসিক ব্যকুলতার মর্যদা দেয়। তার মন ভুলাতে হাজারো পথ খোঁজে। তার শরীরের ছোঁয়া, তার প্রেমের আকুতি দুই বাহুর আলিংগনের মাধ্যমে দিয়ে দেয়। আমার এক ফুফা ছিলেন একটু রাগী। ফুফুকে অনেক কষ্ট দিতেন। একদিন আমি রেগে গেলাম। ফুফু আমার মুখ আটকে ধরলো। বললো, বাছা, তুমি বুঝবেনা, ওর রাগ কমে গেলে আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমারে নতূন করে পাওয়ার জন্য সে এমনটা করে। এটাই কবির ভাষায়,

জাফা জু ইশক মে হেঁ ওহ জাফা হি নেহি, 
জাফা গার ইশক মে না হো তুমি ইশক হি নেহি।

প্রেমের মাঝে যে বিচ্ছেদ থাকে তাকে বিচ্ছেদ বলা যায় না, প্রেমে বিচ্ছেদ না হলে সেটা প্রেমই না। আল্লাহ স্বামী স্ত্রীকে এই দ্বিতীয় স্তরে এনে দ্রুত তাদের শরীরে শরীর ও মনে মন মিলিয়ে দিতে চান। এতেও যদি কাজ না হয় তা হলে পরের স্তরে যাওয়ার জন্য কুরআন বলছে।

 

৩। তাদের মার দাও। এই স্তরের কথা শুনে অনেকে চিৎকার করে ওঠেন। ওরে বাবারে, ইসলাম কেমন শান্তির ধর্ম, বৌকে মারতে বলে। কেও কেও বলে , মারো মারো যত পারো মারো। ইসলাম এই দুইটার কোনটাই বলেনি।

ইসলাম কোন নব বিবাহিত স্ত্রীকে মার দিয়ে বস করতে বলেনি। কোন সুন্দর ব্যবহারের অধিকারী মেয়েকেও মারতে বলেনি। সাধারণ ভাবে ভালো, চরিত্র যার ভালো তাকেও মারতে অনুমতি দেয়নি। ইসলাম এমন স্ত্রীর কথা বলেছে যাকে নিয়ে স্বামী তার পুরো জীবন ও দুনিয়া সাজিয়েছে। সন্তান হয়তবা হয়েছে। কিন্তু মহিলার হয়েছে ‘নুশুয’ রোগ। তার স্বামীকে আর রোচেনা মহিলার। বাইরে গিয়েছে চোখ। মন কারো মন ছুঁয়েছে, বা দেহ করো দেহে। স্বামী বেচারার জীবন এখন জাহান্নামের দাবানলে পোড়ায়ে মারতেছে। ইসলাম বলেছে, দেখ স্বামী, এই স্ত্রীকে তুমি কষ্ট করে হলেও ধরে রাখো। তোমার জীবন বেঁধেছে এর গাঁটে। তোমার প্রেমের বীজ বুনেছো এর দিলের বাগিচায়। তোমার সন্তান ছিলো এর জঠরে। তুমি ওর ‘আধমরা দের ঘা মেরে তুই বাঁচা’র মত পরিবেশ কর। কখনো ঘা মারলে আধমরারা বেঁচে ওঠে। আমাদের রবি ঠাকুর ও তা জানতেন।

 

এই মারটাকে ইসলাম কখনো বলেনি স্ত্রীর শরীরে ফুটে ওঠার মত মার। দাঁত ছড়ায়ে দেয়া না, নরম তুলতুলে মখমলে ঐ মুখেও না। শরীরের সেন্সেটিভ কোন স্থানেও না। তার শরী্রে লাল দাগ ওঠে এমন ও না। কালশিরে পড়ে তাও না। এ মার হতে হবে মুখের ভাষা দিয়ে। ভালোবাসার উপদ্রবে, মনের দূর্বলতার সংস্পর্শে। কোন কোন সাহাবী শুনেছেন আমাদের নবী (স) মেসওয়াক দিয়ে আলতো মারতে বলেছেন। মেসওয়াক দিয়ে মারার অর্থই হলো মারার নামে মশকরা। মানে স্ত্রীকে বুঝতে দেয়া যে স্বামী খুব সিরিয়াস হয়ে গেছে, সে তার স্ত্রীকে ছাড়বেইনা। তাকে সব দিয়ে ও রাখতে চায়। কোন চোরকে মারার মত নয়, ডাকাতের মার নয়, সন্ত্রাস ছড়ানোর চাকুর ব্যবহার নয়, লাঠি ও নেই এখানে। পেলব ও মুখে চুমা ও প্রেমের পরশ ছাড়া ওখানে কোন আঘাৎ নয়। আমাদের নবী (স) আরাফাতের বিদায় হজ্জের খুতবায় তাই বলেছেন, “দেখ, মেয়েদের সাথে ভালো বাবহারের নির্দেশ আমি দিচ্ছি তোমাদের। তারা তোমাদের প্রেমের কুঠিরে কারান্তরীন। তাদের মারলেও যেন তা কখনো শরীরে ফুটে ওঠার মত না হয়”।

 

আমি আমার দাদী, নানী, মা খালা, ফুফু চাচী ও স্ত্রী বা কন্যাদের শরীরের যে অংশ দেখা জায়েজ সেখানে হাত বুলিয়ে দেখিছি, আল্লাহ এই সব দেহ গুলোকে অন্যভাবে বানায়েছেন। ওখানে নখের একটা টোকা দিলেও লাল আভা ফুটে ওঠে। তাহলে আমাদের নবীর (স) মারের সীমানা নির্ধারণ যে করে দিলেন, তার অর্থ কি? এ মার কখনো পশুদের মারার মত নয়। পুলিশের কাস্টোডিতে আসামীর মার খাওয়ার মত নয়। এটা একজন ‘নুশুযগ্রস্ত’ মেয়ে যে ভুল পথে যেয়ে একটা সংসারকে প্রায় দোযখের প্রান্তে নিয়েছে তাকে ফিরিয়ে আনার নিরন্তর চেষ্টার তৃতীয় ধারা। জানিনা যারা এই মার কে অমানবিক বলে তারা স্বামীর কষ্টটা বুঝে কিনা। কোন কোন মিন মিনে পুরুষ স্কলার এই মারকে মার বলেন নি। তারা বলতে চান কুরআন মার বলে অন্য কিছু বুঝিয়েছে। কারণ কুরআনে ‘দারাব’ এর অনেক অর্থ আছে। তাদের ব্যখ্যা শুনে, তাদের আরবী জ্ঞানের উপর একটু করুণা হয়েছে আমার। তারা কুরআন ও হাদীস একত্রে এনে ‘দারাবা’ শব্দের অর্থ বুঝার চেষ্টা করেননি।

 

৪- মিমাংসাকারী নিযুক্ত করোঃ উপরের কৌশল গুলো প্রয়োগ করার পরেও যদি কাজ না হয়, তাহলে স্বামী এবার শেষ চেষ্টা করে দেখবে। তার পরিবারের একজন ও স্ত্রীর পরিবারের একজন নিয়ে একটা দরবারের ব্যবস্থা করবে। যেখানে মিমাংসার শেষ ধাপে পৌঁছানো যায়। এই মিমাংসা কারী দুইজন উভয় পক্ষের হিস্টরী শুনবেন। দুইজনেই এদের মাঝে ইসলাহ বা সংশোধনের নিরন্তর চেষ্টা করবেন। এই পর্যায়ে আল্লাহ তা’আলা বলে দিলেন এই স্বামী স্ত্রী যদি নিজদের সংশোধনের চেষ্টা করে, তাহলে আল্লাহ তাদের তাওফীক দিবেন। মানে মিলানোর সব পথ বের করে দেবেন।

 

স্বামী স্ত্রীর মাঝে মতপার্থক্য দূর করার এই স্তর গুলো সত্যিই খুব ই প্রসংশিত। আল্লাহ এই সাজেশানগুলো দেয়ার পর বলেছেনঃ দেখ আল্লাহ যা বলছেন তা খুবই ফলপ্রদ। কারণ “নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু জানেন, সব ব্যাপারে খবর রাখেন”। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় এই ৪টা স্তরকে অনেক নিখুঁত উপায় হিসেবে পেয়েছি। অনেক পরিবারের কনসাল্টেশানে যখন এই মেথোড গুলো ব্যাখ্যা করেছি, তখন তাদের মার পর্যন্ত যাওয়া লাগেনি, তার আগেই দুই দেল জোড়া লেগেছে আলহামদুলিল্লাহ।

এখন আসে উলটা ফতোয়া। মানে স্বামী যদি খারাপ হয় তখন স্ত্রী কি করবে? ইসলাম তার জন্য খুলা’ এর দরোযা খুলে দেয়। সে সম্পর্কে আরেক ইফতারের পর আলাপ করবো ইনশাআল্লাহ।

পোস্টটি ৩৮৬ বার পঠিত
 ২ টি লাইক
২ টি মন্তব্য

Leave a Reply

1 Comment on "স্ত্রীকে মারা বা না মারা – ড. শাইখ আব্দুস সালাম আজাদী"

Notify of
avatar
Sort by:   newest | oldest | most voted
স্বপ্ন কথা
Member

বিশ্লেষণ মূলক লেখা। গুরুত্বপূর্ণ।

wpDiscuz