দাম্পত্য জীবনে কীভাবে সুখী হওয়া যায়
লিখেছেন আহমাদ আল-সাবা, এপ্রিল ১৪, ২০১৭ ৪:৪২ অপরাহ্ণ
mg_9606

দাম্পত্য জীবনে কীভাবে সুখী হওয়া যায় সেটা নিয়ে এক বোনের একটা পোস্ট পড়েছিলাম। সেটা কোন ধার্মিক বোনের ধর্মীয় স্ট্যাটাস ছিলো না। কিন্তু ঐটা পড়ে আমার মনে হইছিলো আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মা খাদিজা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) এর ভালোবাসার কথা। মা আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)-ও কেন আল্লাহর রাসূলের মা খাদিজার প্রতি ভালোবাসায় ঈর্ষাণীত হতেন!!

কেন আল্লাহর রাসূল (সাল্ললাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মা খাদিজা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কথা স্মৃতি চারণ করে ঘন্টার পর ঘন্টা খাদিজার বোনের সাথে স্মৃতি চারণ করতেন, কেন ভালো কিছু রান্না হলেই খাদিজার বান্দবীদের বাড়িতে একটা অংশ পাঠিয়ে দিতেন, কেন যুদ্ধে মেয়ের জামাইয়ের ক্ষতিপূরণ স্বরুপ খাদিজার গলার হার দেখে কেঁদে দিয়েছিলেন এবং সাহাবাদের কাছে সেটা ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন???

 

খাদিজা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন সেই আরবের ৫ জন সেরা ধনীদের একজন কিন্তু তিনি আল্লাহর রাসূলের সাথে শিয়াবে আবু তালিবে সেচ্ছায় আল্লাহর রাসূলের সাথে বন্দিত্ত্ব বরণ করেছিলেন, গাছের পাতা খেয়ে থেকেছেন। যখন কেউ তাঁর পাশে ছিলো না তিনি শান্তনার বাণী নিয়ে জড়িয়ে ধরেছেন। হেরা গুহায় তিনি খাবার দিয়ে এসেছেন, খাবার শেষ হওয়ার আগেই আবার খাবার নিয়ে গিয়েছেন – আরবের সেরা ধনী চিন্তা করেননি চাকর দিয়ে খাবার পাঠাই। আবার খাবার দিয়ে চলেই আসেননি, মাঝে মাঝেই সেখানে থেকেছেন, সাপোর্ট দিয়েছেন এভাবেই।

 

এবার মূল কথায় আসি, যেই স্ট্যাটাসের কথা বলছিলাম। সেই বোনটি পড়ালেখা করারত অবস্থায় বিয়ে করেন আরেক পড়ালেখা করা ছেলেকে। ছোট্ট একটা ঘরে ভাড়া থাকতেন। জামা-কাপড় ছাড়া সংসার করার মত কিছু ছিলো না তাদের এবং কেনার মতও ছিলো না। কিন্তু সেই মেয়ের কথা অনুসারে তারা সময়ের সাথে কেউ কারো বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অভিযোগ পর্যন্ত করেননি। দিন শেষে তাদের কষ্টগুলোও শেষ হয় এবং সুখী দাম্পত্য জীবন হয় তাদের সাথী। কেন হয়েছে এমন?

 

বোনটি নিজেই উত্তর দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমরা যখন পাত্র খুজি তখন অধিকাংশই খুজি প্রতিষ্ঠিত পাত্র। এখানেই সমস্যাটার শুরু। আমরা এমন কারো কাছে মেয়েকে দিতে চাই না যেন মেয়ে ঐ পরিবারে ছেলের সাথে কষ্ট করে সুখের সংসারে নিজেরা গড়ে তুলুক। আমরা চাই সব রেডিমেইড আছে এমন পরিবার। এখানে যখন একটা মেয়ে এরকম পরিবারে যায় তখন ছেলে-মেয়ের মাঝে একটা দূরত্ব থেকেই যায়। কারণ ছেলেটি যেই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মেয়েটি সেগুলোর কিছুই পাইনি। এক্ষেত্রে সাইকোলজিক্যাল দূরত্ব থাকে। ছেলেটি কত সংগ্রাম করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আর মেয়েটি এটা ওটা বা এমন সব আবদার করে যেন চাহিবা মাত্র বিয়ে করলেই সব দিতে হবে। এখানেই সমস্যার শুরু হয়ে যায়। কিন্তু দুজনেই যদি কষ্ট করে পরিবার গড়ে তুলতো তবে তাদের আন্ডারসস্ট্যান্ডিং ভালো থাকতো, সংগ্রামের পথে বা সুখী পরিবার হওয়ার ক্ষেত্রে কেউ কারো প্রতি কোনো অভিযোগ থাকতো না।

 

মা খাদিজা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার সেই অবদানের জায়গাটা ছিলো। আপনি দায়িত্বের বদলে কেবল রেডিমেইড পরিবারে গিয়ে অধিকার চাইবেন, তখন সেটা জেনুইন ভালোবাসা না, অন্তরের গভীর থেকে যেই ভালোবাসা আসে সেটা সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে আসে, যা মানুষ মনে রাখে। মা খাদিজার কথা এভাবেই আল্লাহর রাসূল (সাল্ললাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মনে রাখতেন অনেক বছর পরেও, কাঁদতেন তাঁর ভালোবাসার কথা স্মরণ করে। যখন কেউ তাঁর পাশে ছিলো না কিন্তু তিনি ছিলেন, অভিযোগ আর অধিকারের ঢালি নিয়ে নয়; ভালোবাসা, দায়িত্ব আর সমসংগ্রামের পথে একই পথের যাত্রী হয়ে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা জিব্রাইলের মাধ্যমে তাকে ‘সালাম’ পাঠিয়েছেন জীবিত থাকা অবস্থায়। জান্নাতিদেরও আল্লাহ ‘সালাম’ দিবেন সর্বপ্রথম এভাবেই (সূরা জুমার)।

পোস্টটি ৩৭০ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
১ টি মন্তব্য
একটি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. খুবই বাস্তব লেখা।
    অনেক আগে ফেইসবুকে একটা স্ট্যাটাস দেখেছিলাম সেটাই মনে পরে গেলো…
    “বর্তমান যুগে আমরা পাত্র খুঁজি দ্বীনদার বিল গেইটস
    আর পাত্রী খুঁজি পর্দানশীন কেটরিনা কাইফ।”
    ফলাফলঃ পাত্র পাত্রী সঙ্কট।

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.