“বিভাজিত এবং শাসিত” বাঙালী ও বাংলাদেশী আর কত দিন?
লিখেছেন আবু সুলাইমান, অক্টোবর ১৩, ২০১৪ ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ

“ডিভাইড এন্ড রুল পলিসি”- মতপার্থক্যের মাধ্যমে বিভাজন এবং শাসন। মূলত সপ্তদশ শতকে ভারতবর্ষে ইউরোপীয় দস্যুতুল্য ব্যবসায়ী পরিচয়ে ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠীর আগমনের পর থেকেই এই মূলনীতির প্রয়োগ হয়ে আসছে । প্রথম দিকে ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী (ডাচ, পর্তুগীজ, স্পেনীয়, ইংরেজ) একে অপরের বিরুদ্ধে এই মূলনীতি প্রয়োগ করে তারা তাদের ব্যবসায়িক সম্প্রসারণে ব্যস্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে তারা এই মূলনীতি প্রয়োগ করে মুসলিম-হিন্দু সম্প্রীতি-ঐক্য বিনষ্ট করে তাদের ব্যবসায়িক ফায়দা লুটে নেয়। পরবর্তীতে এই একই মূলনীতি তারা প্রয়োগ করে মুস্লিল রাজা-বাদশাহ ও অমাত্যদের ভেতরে পারস্পরিক অনৈক্য ও বিভেদ তৈরীতে। এভাবেই এই সংখ্যালঘিষ্ঠ বিদেশী, প্রধানত ব্রিটিশ জাতি, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুস্লিল ও হিন্দু জাতিকে পদানত রাখে রাখে প্রায় দুইশ বছর।

পরবর্তীতে ভৌগলিক স্বাধীনতা মিললেও এখনও বাংলাসহ গোটা ভারতীয় উপমহাদেশ তাদের দাসত্ববৃত্তি করে যাচ্ছে। এখনও গোটা বাংলায় চালু রয়েছে তাদের এই “বিভাজন ও শাসন” মূলনীতি। শুধু পরিবর্তন হয়েছে শাসক গোষ্ঠির, হয়নি শাসিত বা বিজিত জাতির। ব্রিটিশের স্থানে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা সভ্যতা।
বর্তমান বাংলাদেশে এদেশের ক্ষমতালিপ্সু রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীগুলো সাংস্কৃতিক বাঙালী জাতীয়তাবাদ (আওয়ামী লীগ), ভৌগলিক বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ (বিএনপি) এবং ধর্মীয় জাতীয়তা বা আন্তর্জাতিকতাবাদের (প্রধানত জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ) নামে নিজেদের ভেতর বিভাজন ও বিভেদ অক্ষুন্ন রেখেছে। আর এই বিভাজন ও বিভেদের মাধ্যমে তারা সাম্রাজ্যবাদী বিদেশী শক্তির জন্য এ দেশ শাসন, শোষণ ও পরিচালনার পথ উম্মুক্ত রেখেছে।
দেশের এসব দল ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো তাদের নিজস্ব দলীয় চেতনা বিস্তারের জন্য ক্ষমতার নেশায় উন্মাদ। রাষ্ট্রের ক্ষমতাশীর্ষে বসার জন্য তারা বিদেশী সাম্রাজ্যবাদী শাসক গোষ্ঠীর পদলেহন করে চলছে। তাদের মধ্যে চলছে ‘দেশ এবং দেশের সম্পদ’ কে কতটা ছাড়ে বিদেশীদের হাতে ইজারা দিতে পারে তার পাল্টাপাল্টি প্রতিযোগীতা। ফলে এদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগলিক সীমানা আজ উম্মুক্ত। বিদেশী প্রভুরা যে যার মত আজ দখল ও স্বত্ব প্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত।

রাজনৈতিক ময়দানে লড়াইরত দল ও গোষ্ঠীগুলোর তবুও হঁশ হয় না। তাদের দলীয় চেতনা বিকাশের লড়াই বন্ধ হয় না। যতদিন দলীয় চেতনা ফেরীর নামে রাজনৈতিক দলগুলোর এই আন্তঃবিভাজন ও আন্তঃবিভেদ বজায় থাকবে, ততদিন দূর হবেনা সাম্রাজ্যবাদী শাসন- শোষণ।

তাই নিজেদের ভেতরের দ্বন্দ্ব, সংঘাত ও বিভাজন নিজেদেরকেই দূর করার পথ খুঁজতে হবে। তৈরি করতে হবে আন্তঃদলীয় সম্প্রীতি ও ঐক্য। কেবল তখনই দেশে আসবে উন্নয়নের কাংখিত গতি। জীবন-মানের ঘটবে উন্নয়ন। মানুষ পাবে স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ। তাই অনৈক্য ও বিভাজনের চাই সমাপ্তি, চাই ঐক্য ও অবিভাজনের প্রকাশ।

পোস্টটি ৩৬৯ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
২ টি মন্তব্য
২ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. লক্ষ্য যদি এক হয়, ভিন্নমতের , নানা দৈর্ঘ্যের কাপড় পরা মানুষের সাথে কাজ করতে আপত্তি না করাই ভালো। তবে, খুব সাবধানে খেয়াল রাখা উচিত যে, ‘নিজের জামার দৈর্ঘ্য যেন কমে না যায়’।
    সামষ্টিক লক্ষ্য যা-ই হোক, এজন্য ব্যক্তিগত লক্ষ্যকে ভুলে যাওয়া বোকামী।

  2. দলীয় ঐক্য বিভাজিত সেখানেই যেখানে ব্যক্তিগত অনৈক্য বিবাদমান!

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.